মেয়র লোকমান হত্যা : অস্ত্র মামলায় ৪ জনের ১৭ বছর কারাদণ্ড
বহুল আলোচিত নরসিংদীর মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র মামলার আসামি নাজমুল হাসান শরীফ, আওলাদ হোসেন, সারোয়ার হোসেন ও মীর দেলোয়ার হোসেন নামে ৪ অস্ত্রধারীর প্রত্যেককে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বহুল আলোচিত নরসিংদীর মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র মামলার আসামি নাজমুল হাসান শরীফ, আওলাদ হোসেন, সারোয়ার হোসেন ও মীর দেলোয়ার হোসেন নরসিংদীর স্পেশাল ট্রাইবুনাল জজ আদালত -২’র বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন মঙ্গলবার বিকেলে এক জনাকীর্ণ আদালতে এই কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর রাতে আসামি নাজমুল হাসান শরীফ অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ারে বসা অবস্থায় নরসিংদী পৌরসভার তৎকালীন মেয়র লোকমান হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিহত মেয়র লোকমানের ছোট ভাই বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান কামরুলের দায়েরকৃত হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ নাজমুল হাসান শরীফকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার কাছ থেকে লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি অত্যাধুনিক পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করে এবং আসামি আওলাদ হোসেন, সারোয়ার হোসেন সারোয়ার ও মীর দেলোয়ার হোসেন শরীফ নামে আরো ৩ জনকে গ্রেফতার করে।
আসামিরা লোকমান হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি পর্যায়ক্রমে তাদের হাত হয়ে নাজমুল হাসান শরীফের হাতে যায় এবং পরবর্তীতে আবার শরীফের হাত থেকে তাদের হাতে ফিরে আসে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করে। পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে দায়েরকৃত চার্জশিটের পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী স্পেশাল ট্রাইবুনাল জজ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন আসামিদের ১৭ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করে।
আসামিদের মধ্যে নাজমুল হাসান শরীফ, সারোয়ার হোসেন ও মীর দেলোয়ার হোসেন নরসিংদী কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আসামি আওলাদ হোসেন ইতোপূর্বে জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডের মূল মামলার কার্যক্রম বর্তমানে বাদী পক্ষের রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে।
সঞ্জিত সাহা/এমএএস/আরআই