ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সব মেম্বারের অনাস্থা

জেলা প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া | প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৭

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

চেয়ারম্যানের এসব কর্মের কারণে পরিষদের নির্বাচিত ১২ সদস্যের (মেম্বার) সবাই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। সোমবার বিকেলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন পরিষদের সদস্যরা। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককেও অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস একক সিদ্ধান্তে পরিষদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করে পরিষদের সব উন্নয়ন প্রকল্প একক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়ন করেছেন চেয়ারম্যান। শুধু উন্নয়ন প্রকল্পই নয়, পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সদস্যদের মতামত নেয়া হয় না।

সদস্যদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ থেকে ভূমি হস্তান্তর কর বাবদ তিন কিস্তিতে চার লাখ তিন হাজার টাকা বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে বরাদ্দ হয়। মোটা অঙ্কের এই টাকা কোন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। ইউনিয়ন পরিষদের বয়স্কভাতার মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। 

ওই টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান নিজে ব্যবহারের জন্য একটি প্রাইভেটকার কিনেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মেম্বাররা। ইউনিয়নে দুজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে মহিউদ্দিনের নামে। এছাড়া আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকরি দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। 

বর্তমানে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদে অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকলেও বোয়ালিয়া ইউনিয়নে চলছে অ্যানালগ পদ্ধতিতে। হাতে লেখা সনদ দিয়ে জনগণের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যার কোনো হিসাব ইউনিয়ন পরিষদে নাই। নাগরিক ট্রাক্সের জমাকৃত টাকা পরিষদের ফান্ডে জমা হয় না। সকল টাকা চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে চলে যান বলে জানান সদস্যরা।

লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য কাজল রেখা, রেহেনা খাতুন, উল্মে সুমাইয়া বেলী, ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক হোসেন, ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য রহিদুল ইসলাম, ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য রিন্টু আলী, ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য নাহারুল ইসলাম, ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য রহিদুল ইসলাম (বিশ্বাস), ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য আক্কাস আলী, ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু হানিফ, ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য ইয়ারুল ইসলাম ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য নাজিম উদ্দিন বিশ্বাস।

সদস্য রহিদুল ইসলাম বলেন, পরিষদের সকল কর্মকাণ্ড অনুমোদন নিয়ে বাস্তবায়ন করতে সদস্যরা একাধিকবার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান সদস্যদের কথা কর্ণপাত করেননি। উল্টো চেয়ারম্যান বলেছেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তাবায়নের জন্য সদস্যদের মতামত নেয়ার প্রয়োজন নেই। সদস্য ছাড়াই পরিষদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবো।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, আমার বিরুদ্ধে মেম্বাররা যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আল-মামুন সাগর/এএম/এমএস