ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার চিংড়ি ঘের

জেলা প্রতিনিধি | বাগেরহাট | প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৭

নিম্নচাপের প্রভাব ও ভারি বর্ষণে বাগেরহাট জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে বাগেরহাট, রামপাল, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ ও চিতলমারী উপজেলার ১০ হাজারের অধিক বাগদা, গলদা চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে।

সেই সঙ্গে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে অন্যান্য মাছের ঘের ও সবজি বাগান। পাশাপাশি চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার ১০ গ্রাম তলিয়ে গেছে।

চিতলমারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিপুল কৃষ্ণ পাল জানান, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার ৫ হাজার ১৭০টি মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২৩ কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ঘের বা পুকুরের সংখ্যা বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হাসান জানান, ভারি বর্ষণে এই পর্যন্ত উপজেলায় আমন বীজতলা ৫৫ হেক্টর, রোপা আমন ২৯৫ হেক্টর, সবজি ৫০৫ হেক্টর ,আউস ধান ২৫ হেক্টর, পান বরজ ৭ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে।

চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের খিলিগাতী, খড়িয়া, করাদ দিয়া ও ডুমুরিয়া এলাকার চিত্রা নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ৫ শতাধিক বাড়ি ঘরসহ ইউনিয়নের প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার, বাসাবাটি, মুনিগঞ্জ, খারদার, বাগেরহাট সদর থানা, ডাকবাংলোর মোড়সহ অনেক এলাকায় জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকার ছোট বড় ১০ হাজার মৎস্য ঘের।

এছাড়া বাগেরহাট, রামপাল, শরণখোলা, মোড়লগঞ্জ ও চিতলমারী উপজেলার ১০ হাজারেরও বেশি মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে জেলার চিতলমারী উপজেলায় অবস্থা সব থেকে নাজুক। টানা বর্ষণ ও উজানের পানিতে সেখানকার ৫ হাজারের অধিক ঘের ভেসে গেছে। ঘের মালিকরা শেষ চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারিনি তাদের ঘেরের মাছ। মৎস্যচাষিদের আশঙ্কা গত কয়েক দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে অন্য ঘেরগুলোও তলিয়ে যাবে।

এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুসাঈদ জানান, চিত্রা নদীর একটি অংশের বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। বর্তমানে ভেঙে যাওয়া বাঁধ ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় মেরামতের কাজ চলছে। এ কাজের জন্য সরকারিভাবে এক লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শওকত আলী বাবু/এএম/এমএস

আরও পড়ুন