রেলস্টেশনে বসে কাঁদছে তারা, কে তাদের বাবা-মা!
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে ১০ ও ৮ বছরের দুটি ছেলে কান্নাকাটি করছিল। এ সময় স্টেশনের পাশের বাঙ্গাল হাওলা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে শাহীন তাদের কথা জিজ্ঞেস করতেই কান্না আরও বেড়ে যায়।
পরে তাদের কালীগঞ্জ থানায় পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশ ওই ছেলে দুটিকে সমাজসেবা অধিদফতরের টঙ্গী শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে ওই ছেলে দুটি আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কাঁদতে দেখে শাহীন নামের এক পথচারী মায়া হলে তাদের থানায় রেখে যায়। পরে ওই পথচারী বাদী হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
শিশুদের বরাত দিয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান জানান, ছেলে দুুটির একজনের নাম মোহাম্মদ আলী। বয়স আনুমানিক ৮ বছর। তার বাবার নাম সিরাজ উদ্দিন ও মায়ের নাম লিটা বলে জানায়। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ নিকলী উপজেলায় বললেও গ্রামের নাম বলতে পারেনি। মোহাম্মদ আলী রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় থাকে। আগে বসুন্ধরা সিটির ৪র্থ তলার চারুলতা নামের একটি শাড়ির দোকানে কাজ করলেও এখন কিছু করে না। তার পরনে হাফপ্যান্ট ও খয়েরি-হলুদ রঙের শার্ট রয়েছে।
অন্য শিশুটির নাম শরীফুল ইসলাম। বয়স আনুমানিক ১০ বছর। তার বাবার নাম ওমর ফারুক ও মায়ের নাম শরীফা বলে জানায়। মা শরীফা জর্ডানে থাকে। গ্রামের বাড়ি নরসিংদী ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনি। শরীফ রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকার রেমকো মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার পরনে হালকা খয়েরি হাফপ্যান্ট ও লাল-নীল রঙের কাতার এয়ারওয়েজর টি-শার্ট রয়েছে।
শিশু মোহাম্মদ আলী ও শরীফ জানায়, তারা ঘুরতে ঘুরতে তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে আসে। এ সময় কমলাপুল থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ট্রেনে উঠে পথে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে নামে।
কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ছেলে দুটির আত্মীয়-স্বজনকে সমাজসেবা অধিফতরের টঙ্গী শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক সৈয়াদা হাসিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিয়ে যেতে অনুরোধ করেন।
আব্দুর রহমান আরমান/এএম/জেআইএম