শ্বশুরকে ফাঁসাতে মিজানকে হত্যা
প্রেমের বিয়ে মেনে না নেয়ায় শ্বশুরকে ফাঁসানো এবং ভ্যানে করে ইট পরিবহন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে মারপিটের প্রতিশোধ নিতে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আড়াই বছরের শিশু মিজান সাকিদারকে হত্যা করা হয়। ওই শিশুর প্রতিবেশি ইন্দাজ আলীর জামাতা ভ্যানচালক হাসান আলী (৩০) শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে।
প্রথমে তার মরদেহ শ্বশুরবাড়ির ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়। পরে তার শাশুরি মরদেহটি সেখান থেকে তুলে বাড়ির বাইরে ফেলে দেন। নিহত মিজান তালোড়া পৌর এলাকার পোড়াঘাটা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে হাসান আলীর স্ত্রী রেবেকা খাতুন (২৩) ও শাশুরি আমেনা বিবিকে (৫২) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা হত্যাকাণ্ডে হাসানের সম্পৃক্ততার কথা বললে পুলিশ গত বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে। ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রেবেকা খাতুন ও আমেনা বিবি বগুড়ার বিচারিক হাকিম (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। হাসানকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ওই শিশুকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
বগুড়ার সহকারি পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) গাজীউর রহমান জাগো নিউজকে জানান, রেবেকা খাতুন ও আমেনা বিবি গত বুধবার বগুড়ার বিচারিক হাকিম (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) এটিএম তোফায়েল আহমেদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সেখানে তারা জানান, প্রায় ৬ বছর আগে পোড়াঘাটা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে রেবেকার বিয়ে হয়। কিন্তু রেবেকার বাবা ইন্দাজ আলী তাদের বিয়ে মেনে নেননি। এ কারণে শ্বশুরের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন হাসান। এরই মাঝে দেড় বছর আগে ইটভাটা থেকে ভ্যানে করে ইট সরবরাহ নিয়ে একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের সঙ্গে হাসানের মারপিটের ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই গত ২৪ মে বিকেলে শিশু মিজানকে হত্যা করেন হাসান। পরে সেই মরদেহটি পুঁতে রাখেন শ্বশুরের ঘরের মেঝেতে। কিন্তু বিষয়টি রেবেকা টের পেয়ে তার মাকে জানান। এরই মাঝে ওই শিশু নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। পরের দিন মরদেহটি মাটির নিচ থেকে তুলে রেবেকার মা আমেনা বিবি বাড়ির পাশে ফেলে দিয়ে আসেন। সেখান থেকে ২৫ মে রাতে মরদেহটি উদ্ধার করেন এলাকাবাসী।
তাদের স্বীকারোক্তির পর হাসানকে আটক করলে তিনিও একই বক্তব্য দেন উল্লেখ করে এএসপি জানান, ওই শিশুকেই শুধু নয়, বিগত ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই তাদের পার্শ্ববর্তী পরানপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ৫ বছরের ছেলে আরাফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন হাসান। তাকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উলেখ করেন।
লিমন বাসার/এমজেড/আরআই