ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভোট দিতে না পারায় হতাশ বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী

জেলা প্রতিনিধি | নীলফামারী | প্রকাশিত: ০৬:২২ এএম, ৩১ জুলাই ২০১৭

‘দেশ পেয়েছি, নাগরিকত্ব পেয়েছি, সরকারি-বেসরকারি লোকজন এসে খোঁজখবর নিচ্ছে, বিদ্যুৎ জুটেছে, গ্রামে বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা আসছে, জীবনে বেঁচে থাকার সাধ কিছুটা পূরণ হচ্ছে। কিন্তু চুক্তির দুই বছর পার হলেও ভোট দিতে পারিনি।’

ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়নের দুই বছরে পাওয়া-না পাওয়ার অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ভারতীয় ৩১ নম্বর নগর জিগাবাড়ী ছিটমহলের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে সরকার কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন করেছে। এমন পাওয়া-না পাওয়ার মধ্য দিয়ে আজ সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজনে পালিত হচ্ছে দ্বিতীয় বছর পূর্তি।

Dimla

দীর্ঘ ৬৮ বছর বন্দিদশার পর ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন করে সরকার। উচ্চ আদালতে মামলা থাকার কারণে নীলফামারী ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ও টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের মধ্যে সীমানা জটিলতার মামলায় স্থাগিত রয়েছে ওই তিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ফলে তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

বিলুপ্ত ছিটমহলের নয়াবাংলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাগরিক হইনো, কিন্তু চেয়ারম্যান-মেম্বারের ভোট দিবার পারিনো না, এইটাতে মনটা একনা খারাপ আছে। শেখ হাসিনার (সংসদ নির্বাচনে) ভোটোত যেন হামেরা ভোট দিবার পারি, সেইটার জন্য সরকারের কাছোত হামার আবেদন থাকিল।’

১২০ বছরের বৃদ্ধা ময়মোন নেছা বলেন, ‘শেখের বেটি হাসিনার কারণে ৬৮ বছর পর আমরা মুক্তি পেলাম। সরকারি বয়স্কভাতা পেয়েছি। শেখের বেটি হাসিনা এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।’

দেশ, পতাকা এবং পরিচয় পাওয়ার তৃপ্তি প্রকাশ করে না পাওয়ার অতৃপ্তির কথাও জানায় নয়া বাংলা গ্রামের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাশরাফী নাজনীন। সে বলে, আমার সব প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে ছিল গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, সেখানে আমার মতো অনেকে লেখাপড়া করবে। কিন্তু দুই বছরেও আমার সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এখনও বর্ষায় কাদা পানি ভেঙে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

Dimla

ডিমলা উপজেলার বিলুপ্ত চার ছিটমহল ২৮ নম্বর বড়খানকি, ২৯ নম্বর বড়খানকিবাড়ী গিদালদহ, ৩০ নম্বর বড়খানকিবাড়ী খারিজা গিদালদহ, ৩১ নম্বর নগর জিগাবাড়ি ছিটমহল ঘুরে দেখা গেছে উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র। এসব গ্রামের ১১৯ পরিবার পেয়েছে বিদ্যুৎ সুবিধা। ওই সুবিধায় প্রতিটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে বিদ্যুতের আলো। অধিকাংশ বাড়িতে স্থাপিত হয়েছে বিশুদ্ধ পানির নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা। ওই চার ছিটমহলের জন্য এলাকার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের রহমান গঞ্জ বাজারে স্থাপিত হয়েছে ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলের চার গ্রামে প্রথম বছর শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও নলকূপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিলুপ্ত ছিটমহল ৩১ নম্বর জিগাবাড়ির মতির বাজার হতে কালির ডাঙ্গা পর্যন্ত ৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক এক কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে এবং উত্তর গয়াবাড়ী হতে গয়াবাড়ী পর্যন্ত ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ১৪০ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান আছে।

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ/আরএআর/পিআর