ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অবৈধ দখলে নড়াইলের ছাতড়ার খাল

প্রকাশিত: ০৫:০৭ এএম, ৩১ মে ২০১৫

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ছাতড়ার খাল অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। খালের ভেতর কচুরিপানায় ঠাসা। মাঝে মাঝে আছে মাটির স্তূপ। অধিকাংশ জায়গায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। এছাড়া খালের পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কাঁচা-পাকা স্থাপনা। এতে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে পানি প্রবাহের জায়গা। এক কথায় দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে এ খাল।

দক্ষিণে নবগঙ্গা নদী থেকে শুরু হয়ে উত্তরে কন্যাদহ খাল হয়ে মধুমতী নদীর সঙ্গে মিশেছে খালটি। পশ্চিমে নড়াইল জেলার সর্ববৃহৎ ইছামতি বিল, বরইভিটা-হাগড়াভিটা খাল ও ধোপাদহ খালের সঙ্গে মিশেছে। পূর্ব-উত্তর দিকে মিশেছে মোচড়া খাল ও বিলের সঙ্গে। প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা ও ২০০-২৫০ ফুট চওড়া এ খালটি লোহাগড়া উপজেলায় পানি প্রবাহের হৃদপিণ্ডের ন্যায়।
 
এই দুটি নদী, ২টি বড় বিল, ৪টি খালের সঙ্গে সংযুক্ত। খালের দুই পাড়ে রয়েছে লোহাগড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা। খালটির উন্নয়ন করে লোহাগড়াবাসীর জলাধার হিসেবে চালু করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতনমহল।


খালপাড়ে বসবাস করেন লোহাগড়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ শা ম অ নোয়ারুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, ৬০ এর দশকে প্রবল খরস্রোতা এ খালকে মনে হতো নদী। খালটি নদী, বিল ও কয়েকটি শাখা খালের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় নৌপথ পরিবহন সুবিধার কারণে তখন এ খাল পাড়ে গড়ে উঠে জমিদারদের বাড়িসহ লোহাগড়ার সবচেয়ে অভিজাত পরিবারগুলোর বসতি। পাড়ে গড়ে ওঠে লোহাগড়া বাজার ও লোহাগড়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়। তখন এ খালে একবার সূতিজাল টানলে প্রচুর পরিমাণে দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই খালের পাড় দিয়ে চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। উভয় পাড় ঘেঁষে এবং কেউ কেউ খালের ভেতর পর্যন্ত কাঁচা-পাকা স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। খালের প্রায় মাঝখান পর্যন্ত মাটির স্তূপ করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া কচুরিপনায় প্রায় পুরো খাল ঠাসা রয়েছে। উভয় পাড়ের বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনার ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। বাড়ির শৌচাগার ও নর্দমার নালার মুখ দেয়া হয়েছে এ খালে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জাগো নিউজকে জানান, এ খাল থেকে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে দুর্গন্ধ। বাড়ছে মশা-মাছির উৎপাত। বর্ষাকালে মরা মাছে খাল ভরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে খালটি। তবে খাল পাড়ে ও খালের ভেতরে কাঁচা-পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা কয়েকজনের দাবি, নিজের মালিকানাধীন জমিতেই তারা এসব স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। তারা জানান, আগে খালটি আরো প্রশস্থ ছিল। ৬০ এর দশকে প্রবল খরস্রোতা হওয়ায় খালপাড় ভেঙে ব্যক্তিগত জমিও খালের মধ্যে আছে। তাই আপাত দৃষ্টিতে খালের মধ্যে স্থাপনা মনে হলেও মূলত নিজেদের জমিতেই এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হোসনে আরা হ্যাপী জাগো নিউজকে বলেন, খালটি দখল ও দূষণ মুক্ত করতে পারলে অনেক মাছ পাওয়া সম্ভব। এবং  নড়াইলের মাছের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতো।

লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার কুমার পাল জাগো নিউজকে বলেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী খালে অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করা হবে।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লোহাগড়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আল জহির জাগো নিউজকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খালটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।

এমজেড/এমএস