অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে আরডিপি’র ৩ কর্মকর্তাসহ আটক ৪
মাদারীপুরের শিবচর থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আরডিপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এমসি এস লিমিটেড নামের একটি সংস্থার সভাপতি আবদুর রাজ্জাক এর ছোট ভাইসহ চারজনকে আটক করেছে শিবচর থানা পুলিশ। তাদেরকে শনিবার বিকেলে ঢাকা থেকে
আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, আরডিপি প্রপাট্রিজ লিমিমটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক আদম শফিউল্লাহ (৪০), আরডিপিরি সভাপতির ছোট ভাই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কারী রাজু (৪২), কাওসার আহমেদ (৪৫) এবং আরডিপি’র দালাল চক্রের প্রধান মো. আজাদ (৩৫)। আটকদের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, আটককৃত আদম শফিউল্লাহ রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার মৃত কলিম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে, প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কারী রাজু পটুয়াখালি জেলার গলাচিপা উপজেলার বাজেমোহন গ্রামের আবদুল লতিফ শিকদারের ছেলে, অপর সমন্বয়কারী কাওসার আহমেদ ঢাকার কেরানীগঞ্জের আকসাইল কলাতিয়ার গিয়াস উদ্দিন আহমেদের ছেলে এবং দালাল চক্রের প্রধান আজাদ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন গ্রামের আবদুল ওয়াহেদ আকনের ছেলে।
শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সাত্তার মিয়া জানান, গোপন সংবাদ এবং মোবাইল কললিষ্টের তারিকা ধরে শিবচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল আহম্মেদ এবং এএসআই নিউটন দত্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরডিপির চার জন কর্মকর্তাকে আটক করেন।
শিবচর আরডিপি অফিস সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, শিবচরের প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বেসরকারি এনজিও আরডিপি প্রায় ১০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিপরীতে ঋণ দিয়েছে মাত্র ৪৫ লাখ টাকা। শত শত গ্রহক তাদের কষ্টার্জিত অর্থ অতি লাভের উদ্দেশ্যে এ প্রতিষ্ঠানে জামানত রাখেন। মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নিয়ে আরডিপির উচ্চ পদস্ত প্রায় ১০জন কর্মকর্তারা টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। মালিক হন বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়ির। আরডিপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক মাত্র ১৫ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের একটি বাসার লজিং মাস্টার ছিলেন। পরে একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে চাকুরি করেন। মাত্র কয়েক বছরেই বর্তমান আরডিপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্লাট ও বিলাসবহুল গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল নারায়ণগঞ্জ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। ধর্মপ্রিয় মানুষকে আকৃষ্ট করতে প্রচার করে ‘ইসলামী সরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত’ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এলাকার জামায়াত শিবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত আরডিপিতে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতা কর্মীরা আরডিপি’র এজেন্টের কাজ করে। সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে জামানত সংগ্রহ করে ওই জামাত-শিবিরের নেতা কর্মীরা চওড়া কমিশন নেয়।
শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সাত্তার মিয়া জানান, আরডিপির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরডিপির কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
একেএম নাসিরুল হক/এসএস/এমএস