ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১০ মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি, হতাশায় নেতাকর্মীরা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) | প্রকাশিত: ১১:৪২ এএম, ০৭ আগস্ট ২০১৭

গত ১০ মাসে ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় হতাশায় রয়েছেন দলের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

গত বছর ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি পদে আলহাজ মো. সায়দুল্লাহ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু বিজয়ী হয়।

একইভাবে চার মাস ধরে ঝুলে আছে পৌর কমিটি। গত ৪ মাস আগে পৌর কমিটির সম্মেলনে সভাপতি পদে এসএম বাকি বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আতিক আহমেদ সৌরভ বিজয়ী হয়েছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন ঘোষণা হচ্ছে না এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত নামের প্রস্তাব আমি পাইনি। তাই ঘোষণা দেব কী করে। আর উপজেলা কমিটি অনুমোদন না হলে পৌর কমিটি অনুমোদন দেবে কীভাবে।

দলের নীতি নির্ধারকদের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে উপজেলা ও পৌর কমিটির পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। ওই তালিকা দেখার পর জেলা কমিটির কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যস্ততার কারণে নাজমুল হাসান পাপন তালিকাটি এখনো দেখতে পারেননি। তাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ব্যস্ততার কারণে তালিকাটি আমি দেখতে পারিনি। খুব দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ১২ অক্টোবর আগের সম্মেলনে মো. সায়দুল্লাহ মিয়া সভাপতি ও আবুল মনসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিন বছর মেয়াদী এই কমিটি ১১ বছর দায়িত্ব পালন করে। এরপর সম্মেলনে মো. সায়দুল্লাহ মিয়া পুনরায় সভাপতি হলেও আবুল মনসুর সভাপতি পদে দলীয় ডিলিকেটের ভোটে পরাজিত হয়।

অপরদিকে পৌর কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলন দিলে বিগত কমিটির সভাপতি ইফতেখার হোসেন বেনু ও সাধারণ সম্পাদক মো. শেফায়েত উল্লাহ সম্মেলনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।

এই নিয়ে দলের মধ্যে নেতাকর্মীদের রয়েছে ভিন্নমত ও ক্ষোভ। তাই নাজমুল হাসান পাপন ভেবে চিন্তে তালিকা দেখার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে চান।

দলীয় পদ থেকে বাদ পড়া আবুল মনসুর, ইফতেখার হোসেন বেনু ও মো. শেফায়েত উল্লাকে দলের কমিটিতে কোথায় স্থান দেয়া হবে এ নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানায় দলের একটি সূত্র।

এদিকে, কমিটিতে যারা পদ পেতে আগ্রহী বা আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল তারা এখন দলীয় পদে নেই। কারণ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করলে বুঝা যাবে কে পদে আছে আর কে পদে নেই। এই নিয়ে তাদের মধ্য হতাশা বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নেতা বলেন, আমরা দলের জন্য কাজ করছি। কিন্তু আমাদের পদ কী তা মানুষের কাছে পরিচয় দিতে পারছি না। আরেকজন নেতা বলেন, আমরা কী দলীয় পদ পাব কী পাব না তা বুঝতে পারছি না।

এসব বিষয়ে মো. সায়দুল্লাহ মিয়া বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেবে চিন্তে করা হবে। আমরা সংসদ সদস্যের কাছে নামের তালিকা জমা দিয়েছি কয়েকদিন আগে। তিনি শিগগিরই দেখে তালিকিটি অনুমোদনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল এবং দলীয় সরকার ক্ষমতায় আছে। তাই অনেকেই কমিটিতে থাকতে চায়। কিন্তু সবাইকে পদ দেয়া কঠিন। তবে দলের সকল নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/এমএস