ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জলাবদ্ধতায় সিরাজগঞ্জে ৩শ হেক্টর জমি অনাবাদি

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ১১ আগস্ট ২০১৭

অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার প্রায় তিনশত হেক্টর জমি রোপা আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যে উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউপির মাধবডাঙ্গা, মাথাইলচাপর, ভবানীপুর, বরশিভাঙ্গা, চালিতাডাঙ্গা, কাজীপুর পৌরসভার আলমপুর, পলাশবাড়ি, বেড়ীপোটল, কবিহার, গান্ধাইল ইউনিয়নের দুবলাই, গান্ধাইল, বরইতলা, মেরারপাড়া, কাচিহারা, উল্লাপাড়া, উদগাড়ি, কালিকাপুর ও তেকানী ইউনিয়নে উত্তর তেকানী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ গ্রামগুলোর মধ্যে গান্ধাইল, পলাশবাড়ি, বরইতলা, দুবলাই এবং কাচিহারা গ্রামের বেশিরভাগ জমিতে রোপা আমন ধান চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব জমিতে গত দেড় দশক আগেও ইরি-বোরো মৌসুম ছাড়াও রোপা আমনসহ তিন ফসলি আবাদ করা হতো। এখন জলাবদ্ধতার কারণে জমিগুলোতে ইরি-বোরো মৌসুম ছাড়া আর কোনো আবাদ করা যাচ্ছে না। এর ফলে খাদ্যে উদ্বৃত্ত থাকা কাজীপুর উপজেলা এখন খাদ্যে সংকটে পরিণত হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় কৃষি অফিস জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করলেও তাদের নিকট ক্ষতিগ্রস্ত জমি বা কৃষকের কোনো তথ্য নেই।

জানা গছে, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় কাজীপুর এলাকার মেঘাই ও শুভগাছা ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী রতনকান্দি ইউনিয়নের রতনকান্দি হাটের সামনে দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মিত হয়। এতে অত্র এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম বানিয়াজান খালটির মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে আবারও বন্যায় গান্ধাইল ইউনিয়নের কাচিহারা হয়ে একই ইউনিয়নের পশ্চিম বেতগাড়ী দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে আরেকটি খালের সৃষ্টি হয়। যার প্রবাহ ইছামতি নদীতে পড়েছে। কয়েক বছরে সেই খালটির মেরারপাড়া নামক স্থানে মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মিত হওয়ায় অত্র এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

যমুনা নদী দ্বারা পূর্ব-পশ্চিমে বিভক্ত উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৬টি যমুনার পূর্বে অবস্থিত। যা বন্যার ফলে প্রতি বছরই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। আর পশ্চিমের ৬টি ইউনিয়নের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় দুই অঞ্চলই সমান তালে চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, চলতি বছর বন্যায় তিন হাজার ৭৭২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। এতে চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/পিআর