ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সোনারগাঁয়ের লিচু দিয়েই শুরু হয় লিচুর মৌসুম

প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ০২ জুন ২০১৫

বাজারে এসেছে সোনারগাঁয়ের লিচু। প্রতিবছর একটু আগেভাগেই নামে এখানকার লিচু। এখন এখানকার লিচু প্রায় শেষের পথে। রাজশাহী দিনাজপুরের লিচু আসাতে শুরু করেছে। রাজশাহী দিনাজপুরের লিচু আসার আগমুহুর্ত পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের লিচুর  দখলেই থাকে বাজার। মূলত সোনারগাঁয়ের লিচু দিয়েই শুরু হয় লিচুর মৌসুম। এটা যেন অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।

মে মাসের মধ্যম সময়ে লিচু পাকতে শুরু করে। এসময় ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন লিচু বাগানে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে। এখানকার ৩ শতাধিক বাগানে এখন ক্রেতা পাইকারদের পদচারণায় মুখরিত। সোনারগাঁয়ে লিচুকে ঘিরে ভ্রমণ পিপাসুরাও ছুটছেন সোনারগাঁয়ে।

একদিকে বেড়ানো অন্যদিকে, লিচু কেনা এ যেন একসঙ্গে রথ দেখা আর কলা বেঁচার মত। প্রতি বছরই এমনটি হয়ে থাকে। লিচুর জন্য উপযোগী আবহাওয়া থাকায় এ বছর এখানে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিচু বাগানের মালিক এবং ব্যবসায়ীরা। এরপরও এ বছর লিচুর দাম গত বছরের তুলনায় একটু বেশি।

সোনারগাঁয়ে ৩ প্রজাতির লিচুর ফলন হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে, পাতি লিচু, বোম্বাই লিচু ও কদমী লিচু। এসব জাতের লিচুর মধ্যে তুলনামূলকভাবে পাতি লিচুর ফলন সবচেয়ে বেশী হয়ে থাকে। এ লিচুই বাজারে প্রথম ওঠে। বোম্বাই আর কদমী লিচুর চেয়ে এর স্বাদ একটু কম হলেও প্রথম বাজারটা ধরার কারণে চাষিরা এ লিচুর দাম পায় বেশি। পাতি লিচুর পর বাজারে বিক্রি শুরু হয় সুস্বাদু কদমী লিচুর।

একেবারে শেষের দিকে মিলে বোম্বাই জাতের লিচু। সোনারগাঁয়ের ৩ প্রজাতির লিচুর মধ্যে লিচু চাষিরা কদমী লিচু বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন। এ জাতের লিচু আকারে বড় এবং সুস্বাদু হয়ে থাকে। অনেকে আকারে বড় হওয়ার কারণে কদমী লিচুকে দিল্লীকা লাড্ডু হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ব্যবসায়ীরা সাধারণত ১শ কদমী লিচু ২শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন।

এ বছর বাম্পার ফলনে গত বছরের তুলনায় লিচুর দাম কিছুটা কম। বিগত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেশি এবং তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় কিছুটা কম দামে লিচু বিক্রি করতে পারছেন বলে জানান সোঁনারগাঁয়ের লিচু বাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সোনারগাঁও উপজেলার পানাম, গোয়ালদী, মোগরাপাড়া, খোসনগর, লোকশিল্প, যাদুঘর, চিলারবাগ, দৈলরবাগ, দত্তপাড়া, ভট্রপুর, বাড়িমজলিশ, বাড়িচিনিস, গাহাট্রা, সাদিপুর, গোবিন্দপুর, বৈদ্যেরবাজার, হারিয়া, গাবতলী, অর্জুন্দী, কাটালপাড়া, দরপত, কাপেরবন্দ, হরিসপুর, তাজপুরসহ ৩৫টি গ্রামে ৩ শতাধিক লিচুবাগান রয়েছে। এসব বাগানে লিচু বিক্রি প্রায় শেষের পথে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লিচুবাগানে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচুর জন্য উপযোগী আবহাওয়া থাকায় ফলনের পাশাপাশি লিচুর আকারো এবার বেশ বড়। তাই বিক্রেতারা ভালো দাম পাচ্ছেন।
                               
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি/এমজেড/এমএস