ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পল্লবের রোগ আরোগ্যযোগ্য নয়

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৩:২৮ এএম, ১৫ আগস্ট ২০১৭

তিন বছরের শিশু পল্লব চন্দ্র সরদারের রোগ আরোগ্যযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা খানম। হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসার পর অবশেষে পল্লবকে বাড়ি পাঠানোর সিন্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গত ৬ আগস্ট নওগাঁ সিভিল সার্জনের উদ্যোগে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৯ নং বেডে ভর্তি করা হয়। এর কয়েকদিন পর হাসপাতালের ৩ নম্বর কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। পল্লবের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

পল্লব চন্দ্র জেলার বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে আদিবাসী সুরেশ সরদারের ছেলে। সুরেশ সরদার একটি বেসরকারি কোম্পানির ক্যাভার্ডভ্যান চালক। জন্মের পর থেকেই পল্লবের গায়ের চামড়া কুচকানো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সমস্ত শরীরের চামড়া যেন সাপের চামড়ার মতো দাগ কাটা। এরপর যতোই দিন যায় গায়ের চামড়া শক্ত হয়ে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। নির্দিষ্ট সময় পর সাপের মতো গায়ের চামড়া পরিবর্তন হয়ে পাতলা ও প্রতিটি দাগ থেকে রস বের হয়। পল্লবের শরীর থেকে প্রচুর তাপ বের হওয়ায় ঠাণ্ডা পরিবেশে এবং মাঝে মধ্যে নলকূপের ঠাণ্ডা পানিতে গামছা ভিজিয়ে সমস্ত শরীর মুছে দিতে হয় ও ভেজা গামছা পেঁচিয়ে রাখতে হয়। এতে কিছুটা আরাম বোধ করে। বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজী চিকিৎসা দেয়া হলেও অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা খানম বলেন, পল্লবকে আমরা ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এরমধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর ডা. তুষার সিকদারের সঙ্গে আমরা আলোচনা করলাম। পল্লবকে দেখালাম এবং তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে চিকিৎসা দিচ্ছি। ঢাকায় নেয়া হলে সেখানেও একই চিকিৎসা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রফেসর ডা. তুষার সিকদার। এজন্য আর ঢাকায় নেয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে তিনি নতুন কিছু ওষুধ যোগ করেছেন। পল্লব এখন অনেক ভালো আছে। আরও কয়েকদিন হাসপাতালে রাখার পর পল্লবকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

Pallob

সিভিল সার্জন বলেন, এটি একটি জন্মগত বা জেনেটিক সমস্যা। চামড়া বা স্কিনের সমস্যা। বর্তমানে যে ওষুধগুলো চলছে সমস্যা কিছুটা কমে যাবে এবং আবারও নতুন করে সমস্যা শুরু হবে। এভাবে চলতে থাকবে। তবে একটু সাবধানে থাকতে হবে। চুলকানি ও অস্বস্তিবোধ হবে। তখন মলম ব্যবহার করতে হবে। কিভাবে গোসল ও কি তেল ব্যবহার করতে হবে সেভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পল্লবের মা প্রার্থনা রানী বলেন, অনেক আশা নিয়ে হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে আসছিলাম। ভাবলাম এতোদিনে হয়তো সুচিকিৎসার অভাবে ছেলের রোগ ভালো হয়নি। এবার ডাক্তাররা নিজেরাই আমার ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসছে। ডাক্তাররা যখন বললেন এ রোগ ভালো হবার না। তখন মনটা খারাপ হয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, দিন দিন ছেলে বড় হচ্ছে। তার লেখাপড়া শেখা দরকার। কিন্তু তার সঙ্গে অন্য কেউ মিশতে চায় না। এছাড়া ছেলেও রোদ গরম সহ্য করতে পারে না। তার বাহিরে বা স্কুলে যাওয়াও সমস্যা। এখন নিজেকেই বন্ধুর মতো ছেলের সাথে মিশতে ও পড়াতে হবে। তিনি ছেলের ভবিষ্যতের জন্য সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।

আব্বাস আলী/আরএআর/জেআইএম/আইআই

আরও পড়ুন