নাটোরে সংঘর্ষের মামলায় সাংবাদিক কারাগারে
নাটোরে আওয়ামী লীগ-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের মামলায় সাংবাদিক আব্দুল মজিদকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাদিরা সুলতানার আদালতে আত্মসমর্পন করেন আব্দুল মজিদ। এসময় আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতার কারণে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নাটোর কোর্ট ইন্সপেক্টর (সিএসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি বাজারে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় চারজন গুলিবিদ্ধ এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। ঘটনার পরদিন ৮ এপ্রিল বাগাতিপাড়া থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সেকেন্দার রহমান বাদী হয়ে স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মজিদসহ ৮১ জন জামায়াত নেতা-কর্মীদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে ৬৫ জন আসামি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে গত ১৭ মে বাগাতিপাড়া উপজেলার আমীর মোস্তাফিজুর রহমান, পাকা ইউপির আমীর জহির উদ্দিন বাবরসহ ৮ জনকে জেল হাজতে পাঠান আদালত।
এছাড়া মঙ্গলবার ওই মামলায় বাকি আসামিদের মধ্যে সাংবাদিক আব্দুল মজিদ আদালতে আত্মসমর্পন করলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাংবাদিক আব্দুল মজিদ ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক নওরোজ পত্রিকার নাটোর প্রতিনিধি এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বাগাতিপাড়া উপজেলার সভাপতি।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা শাখার সভাপতি ইসাহাক আলী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দু`দলের সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক আব্দুল মজিদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা জড়ানো হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ চার্জশিট থেকে মজিদের নাম বাদ দেয়। কিন্তু বাদী না-রাজি দিলে পুনরায় মামলার তদন্তভার নেয় নাটোর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ডিবি পুলিশ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আবারো আব্দুল মজিদের নামে চার্জশিট দাখিল করে।
মাহবুব হোসেন/বিএ/আরআইপি