ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চলনবিলে নির্বিকারে চলছে মা-মাছ নিধন, প্রশাসন নীরব

প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ০৩ জুন ২০১৫

বর্ষার পানিতে ভরে গেছে চলনবিলের বিভিন্ন জলাশয়, নদী-নালা, খাল-বিল। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে মা-মাছ নিধনের মহোৎসব। মাছ ধরার বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে দিনে ও রাতে মা-মাছ নিধন করে প্রকাশ্যে হাটে বাজারে বিক্রি হলেও তৎপরতা নেই মৎস্য বিভাগের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিংড়া উপজেলার সরকারি মৎস্য অভয়াশ্রম ছাড়াও কতুয়াবাড়ি ও জোড়মল্লিকা ব্রিজসহ বিলে শতাধিক এক শ্রেণির অসাধু জেলে কুচ, বাদাই ও খোরা জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ডিমে পেট ভরপুর বোয়াল, টেংরা, পাতাসী, পুঁটি, মলা, মাগুড়সহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মা-মাছ প্রকাশ্যে নিধন করছে।

কিন্তু সরকারিভাবে মা মাছ নিধন নিষেধ থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন ডিমে পেট ভরপুর ওই মাছগুলো সিংড়া মৎস্য আড়ত ও আশেপাশের স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। আর ওই মাছগুলো খোদ সরকারি কর্মকর্তারাই বেশি দাম হাকিয়ে কিনে নিচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে।

বুধবার সকালে সিংড়া মৎস্য আড়তে ৯ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছের দাম হাকানো হয়েছে সাত হাজার টাকা। পরে জানা যায়, ওই বোয়াল মাছটি সিংড়াদহ এলাকায় একটি খোরা জালে ধরা পরেছে। তাছাড়া বর্তমান চলনবিলের বিভিন্ন মৎস্য আড়তে প্রতি কেজি টেংরা সাতশ টাকা, পাতাসী নয়শ টাকা, মলা পাঁচশ টাকা, বোয়াল আটশ টাকা, শিং মাছ সাতশ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

জোড়মলি­কা ব্রিজের নিচে কথা হয় জেলে হাবিল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্ষার নতুন পানি আসার কারণে শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া মাছগুলো ছাড়া পেয়েছে। যার কারণে জাল ফেললেই বড় বড় সব ডিমওয়ালা মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে মাছের দাম বেশি থাকায় ভালো টাকা উপার্জন হচ্ছে।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, এ সময়টা মাছের প্রজননকাল। চলনবিলে নির্বিকারে মা-মাছ নিধন বংশ বৃদ্ধিতে বাঁধার সৃষ্টি করছে। আর একারণে দেশীয় প্রায় ৪০ প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। তাই তাদের প্রতিহত করা যাচ্ছে না।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান তালুকদার মাছ নিধনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে খুব শিগগিরই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা খাতুন জানান, মা-মাছ মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলের সম্পদ। এ সম্পদ দেশের প্রচুর চাহিদা মেটায়। গত বছর আনসার নিয়োগ করে দহ পাহারা দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে সকলকে সতর্ক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাহবুব হোসেন/বিএ