ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তিস্তার বাঁধে এখনও ৩৩ পরিবার, বসতভিটায় কোমর পানি

জেলা প্রতিনিধি | নীলফামারী | প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ১৭ আগস্ট ২০১৭

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। গত ৫ দিন থেকে তিস্তার ডান তীর বাঁধে আশ্রয় নেয়া ৩৩টি পরিবার এখনও বাড়িতে যেতে পারেনি।

গত রোববারের প্রবল বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া পাঁচ শতাধিক পরিবার বাড়িতে ফিরলেও খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ৩৩টি পরিবার এখনও বাড়িতে যেতে পারছে না। তাদের বসতভিটায় এখনও কোমর পানি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিস্তার বাঁধে আশ্রয় নেয়া ৩৩টি পরিববারের মধ্যে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে উপ-প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম, খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

tista

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তার বাঁধে তেলির বাজার নামক স্থানে বিজিবির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন ৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহফুজ উল বারী। গত ৪ দিনে তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করে বিজিবি। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, চিড়াসহ ৭টি আইটেম।

সকালে ৭টি ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ৪৬৫টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৪শ পরিবারের জন্য শুকনো খাবাবের প্যাকেট বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন।

ডিমলা সদর ইউনিয়নের ৬৫০ জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকার, খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ৮শ পরিবারে চাল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার, ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ৫৬০ জনের মাঝে চাল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ১৩০ পরিবারে চাল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন, বালাপাড়া ইউনিয়নের ৫৫০ জনের মাঝে চাল বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভুইয়া ও নাউতরা ইউনিয়নের ৫২৫ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করেন সাইফুল ইসলাম লেলিন।

tista

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান ও খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, যে পরিমাণ ত্রাণ সরকারিভাবে পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিস্তায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধের রাস্তায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি এবং খাবারের তীব্র সংকট।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, তিস্তায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ৯৩ মেট্রিক টন চাল ও নগত ৫ লাখ টাকা, শুকনো খাবার ৪শ প্যাকেট ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

জাহেদুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম