পানি কমলেও বেড়েছে নদীভাঙন, শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন
পদ্মা ও আড়িয়াল খা নদীর পানি কমতে থাকায় মাদারীপুরের শিবচরের ৩ ইউনিয়নে নদী ভাঙনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পর্যন্ত ৩ ইউনিয়নের শতাধিক বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।
পাশাপাশি আড়িয়াল খার ভাঙনের কবলে রয়েছে সন্ন্যাসীরচরের ৮ নং ওয়ার্ডের শতবর্ষী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। সেই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বেড়েছে ৮ সে.মি.।
এদিকে, কাঠালবাড়ির কাউলিপাড়া দারুল উলুম কওমি মাদরাসাসহ শতাধিক বাড়ি ঘর নদীভাঙনে আক্রান্ত হয়েছে। ঘর বাড়ি স্থাপনা সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে আক্রান্তরা।
এছাড়া হুমকিতে রয়েছে দুই ইউনিয়নের একাধিক স্কুল, একটি ইউনিয়ন পরিষদসহ শত শত ঘর বাড়ি। নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করায় আক্রান্তরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পানি বাড়ায় এই দুই ইউনিয়ন ছাড়াও চরাঞ্চলের মাদবরচর ও বন্দরখোলার হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। অনেকের ঘরেই পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যা আক্রান্তরা মানবেতর জীবনযাপন করলেও এখনও ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। বন্যার পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও চরাঞ্চলের মানুষ এখনও পানিবন্দি।
অপরদিকে, অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরিতে গাড়ি ওঠা-নামায় পল্টুন তলিয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘাট কর্তৃপক্ষ পল্টুন মেরামত করছে। ঘাটে অবস্থানরত দূরপাল্লার গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে ডুবে যাওয়া পল্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠা-নামা করছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র কাওড়াকান্দি ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রহুল আমিন মিয়া জানান, পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের পল্টুনের র্যাম মাঝে মাঝে উঠানো-নামানো হচ্ছে। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক আছে। ঘাটে ১৬টি ফেরি স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে বলেও জানান তিনি।
এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/জেআইএম