ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উপকূলে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, হুমকির মুখে প্রকৃতি ও পরিবেশ

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ০৩:১৮ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৭

পটুয়াখালীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের খাল ইজারা নিয়ে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করছে। ফলে মাছের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলজ প্রাণি মারা যেয়ে একদিকে যেমন পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব অন্যদিকে বিষ প্রয়োগে শিকার করা মাছ খেয়ে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণি স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে উপকূলে এই চক্রটি সক্রিয় থাকলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিকার। বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভেঙে পড়তে পারে প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান।

পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চর বেস্টিন ফরেস্ট বিটে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, এই বিটের খালগুলোতে রিপকট, শ্যাম্পুসহ বিশেষ ধরনের বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে এলাকার প্রভাবশালীরা। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে এসব খাল ইজারা নিয়ে এভাবেই মাছ শিকার করেন তারা।

চর বেস্টিন এলাকার জেলে রেজাউল জাগো নিউজকে বলেন, আমরা খালে মাছ ধরতে পারি না। প্রভাবশালীরা বন বিভাগের কাছ থেকে খাল ইজারা আনে। রিপকট, শ্যাম্পুসহ ধানে ছিটানো বিষ পানিতে মিশিয়ে তা খালে দেয় আর সব মাছ ওপরে ভেসে আসে। এভাবেই মাছ শিকার করেন তারা।

patuakhali

চর বেস্টিন এলাকার আরেক জেলে মাছুম জোমাদ্দার জাগো নিউজকে বলেন, বিষ দিয়া যে মাছ ধরা হয় সেসব মাছের চোখ সাদা হয়ে যায়। আর মাছ অল্প সময়ের মধ্যে লাল হয়ে যায়। ওই মাছে কোনো স্বাদ নেই।

চর বেস্টিন বিটের ফরেস্ট অফিসার আবদুল জব্বার জানান, জুলাই মাসে তার বিটে খাল ইজারা বাবদ মোট ৬৬৩ টাকা পঞ্চাশ পয়সা রাজস্ব আয় হয়েছে। আর তার বিটের খালগুলোর মধ্যে দুইটি খাল বিট দেয়া হয়েছে। বাকিখালগুলো বিট দেয়ার প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকির হোসেন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ফলে নদী ও খালে বাসকরা ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ, ৪ থেকে ৫ প্রজাতির কাকড়া, ৫ থেকে ৬ প্রজাতির কচ্ছপ ও কাছিমসহ ক্ষুদ্র অনুজ উদ্ভিদ, ক্ষুদ্র প্রাণি এবং কাদায় বসবাসকারী কয়েক হাজার প্রাণি ধ্বংস হয়ে যায়। এখন এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে না পারলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা তার।

জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হলে খালের বিট প্রথা বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সেই সঙ্গে উপকূলের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার পাশাপশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম