ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বগুড়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৭

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বাঙালি ও করতোয়ার নদীর পানি বাড়ছেই। মঙ্গলবার যমুনার পানি কমে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার বাঙালি নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার ৪৭ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদীর পানি ৫৪ সেন্টি মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় ৫ উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ১৯৫টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলার দেড় লাখ মানুষ এখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে। দুই দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলে বর্তমানে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়া, সর্দি, পেটের পীড়া, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। খাবার পানি সঙ্কট দূর করতে ৫৭টি নলকূপ বসানো হয়েছে। বন্যায় নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫টি।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন র্কাযালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক স্কুল রয়েছে ৮৭, মাধ্যমিক স্কুল ১২টি ও মাদরাসা রয়েছে ২টি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার রয়েছে ৩৮ হাজার ৪১০টি।

এদিকে, সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমলেও বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যায় উপজেলার ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল। ভেসে গেছে ৮০ লক্ষাধিক টাকার মাছ। পাঠদান বন্ধ রয়েছে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গবাদি পশুর তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ আহম্মেদ বলেন, বন্যায় ১২০টি পুকুরের ৩৪ দশমিক ১০ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ৭৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, উপজেলায় মোট ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। এর মধ্যে ১৬টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন সরদার বলেন, বন্যায় রোপা আমন, আউশ ধান, শাক সবজিসহ মোট ৩ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬২৫।

সোনাতলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম বলেন, উপজেলায় বন্যায় ৯ হাজার ৫৮৭টি পরিবার পানিবন্দি আছে। ১৯টি বিদ্যালয়, ২৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ও ২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এএম/আইআই

আরও পড়ুন