ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বন্যার ক্ষতি এড়াতে ভাসমান বীজতলা, আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

জেলা প্রতিনিধি | নেত্রকোনা | প্রকাশিত: ০৩:৩০ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৭

বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকা ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন কৌশল হিসেবে ভাসমান কচুরিপানার বেডে সবজি ও মসলা উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় চলতি আমন মৌসুমে পরীক্ষামূলক রোপা আমনের ভাসমান বীজতলা প্রদর্শনী তৈরি করা হয়েছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়নের নাকডরা বিলে এ ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সরাসরি মাটিতে বীজতলা তৈরি না করেও ধানের চারা উৎপাদন সম্ভব হবে। ফলে বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলা নষ্ট হওয়া কিংবা তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে কৃষকরা।

নাকডরা গ্রামের কৃষক সিজান মিয়া জাগো নিউজকে জানান, ভাসমান বীজতলায় যে চারা উৎপাদন হয়েছে তাতে তারা খুবই খুশি। তাদের বীজতলা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও বন্যার কবল থেকে বীজতলাকে রক্ষার জন্য আগামী আমন মৌসুমে এই প্রযুক্তিতিতে বীজতলা তৈরির জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের গুটমন্ডল গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জাগো নিউজকে বলেন, বীজতলা নষ্ট হওয়ার কারণে এবছর কোনো আমনের ফসল পাওয়া যাবেনা। ফলে সারা বছর চাল কিনে খেতে হবে স্ত্রী সন্তান নিয়ে।

জেলার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, বিকল্প পদ্ধতি ছাড়া আমন আবাদ সম্ভব নয়। প্রতি বছরই বন্যা হয় এবং কমবেশি ফসলের ক্ষতি হয়। ভাসমান পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে কৃষক ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মফিজুল ইসলাম নাফিজ জানান, সরাসরি মাটিতে আমনের বীজ বপন না করে কাঁচা কচুরিপানা ৩ ফুট পরিমাণ উঁচু করে পেঁচিয়ে বেড তৈরি করে অংকুরিত ধানবীজ বুনতে হয়।

এতে সময় লাগে ২০-২৫ দিন। বীজতলা তৈরি করতে কোনো বাঁশের চাটাইয়ের মাচা কিংবা কলা গাছের বেলা বানাতে হয় না। স্বাভাবিক বীজতলার মত এত খরচও হয় না। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা লাভমান হবে এবং বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিরক্ষা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটি সফল হওয়ায় এলাকার অন্য কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ বেড়েছে। কারণ মাটিতে বীজতলা তৈরি করতে হলে জমি হালচাষ করতে হয়। সেচ দিতে হয়। এই প্রযুক্তিতে এ সব করতে হয় না।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি সময়ের বন্যায় নেত্রকোনার ৭ উপজেলায় ২৭৭ হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে আমনের বীজের অভাবে এই মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার খামার বাড়ির উপ-পরিচালক বিলাশ চন্দ্র পাল জাগো নিউজকে বলেন, আমরা গত বছরও পরীক্ষা মূলকভাবে ভাসমান বীজতলা করার জন্য বলেছি। কৃষকরা মাত্র ২৫ দিনে সবল ছারা তৈরি করতে পারছে। কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই। এবছরও জেলার ছয়টি উপজেলায় ভাসমান আমনের বীজতলা করেছে। যারা এই পদ্ধতিতে আমনের বীজতলা করেছে, তারা জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর আমনের চারা রোপন করতে পারবে। এই পদ্ধতির সুবিধা হল যত বন্যাই হোক চারার কোনো ক্ষতি হবে না।

কামাল হোসাইন/এএম/এমএস