নারায়ণগঞ্জে গরু নিয়ে এসে বিপাকে ব্যবসায়ী
‘১৩ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি হাটে গরু নিয়ে আসছি। কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি কিংবা চাঁদা চায়নি। এবার রাস্তা থেকে গরুর রশি ধরে টানাটানি করে সন্ত্রাসীরা তাদের নিজেদের হাটে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের হাট থেকে গরু সরাতে হলে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।’
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিরাজগঞ্জ হতে ১৯টি গরু নিয়ে আসা গরু ব্যবসায়ী হযরত আলী জাগো নিউজকে এ কথাগুলো বলেন। ফতুল্লার পাগলা তালতলা গরুর হাটে ইজারাদারের সন্ত্রাসী বাহিনী তার ১৯টি গরু হাটে নামিয়ে রেখেছে।
ব্যবসায়ী হযরত আলী জাগো নিউজকে বলেন, সিরাজগঞ্জ হতে ১৯টি গরু নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের গরুর হাটে এসেছিলাম একটু লাভের আসায়। প্রতি বছর ওই হাটে গরু নিলে নিরাপদে গরু বিক্রি করে সেই গরু বিক্রির টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারি। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার সন্ত্রাসীরা আমাদের গরু সেই হাটে নিতে দেয়নি। গরু বিক্রি করতে এসে যদি হুমকির শিকার ও মারধর খেতে হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জে আর গরু নিয়ে আসবো না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার গরুর ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য নাকি রাস্তায় এবং নদীতে অতিরিক্ত পুলিশ রেখেছে। কোথায় তাদের পুলিশ। রাস্তা থেকে জোর করে সন্ত্রাসীরা গরু নামিয়ে হাটে নিয়ে যায়। আমাদের গরু আমরা কোথায় নিয়ে যাবো আমাদের জিজ্ঞাসাবাদও করার প্রয়োজন মনে করছে না। এত দূর থেকে ট্রাক যোগে গরু নিয়ে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের গরুর হাটের উদ্দেশে রওনা দিলাম, সিরাজগঞ্জ হতে এতগুলো জেলা পাড় করলাম কোথায়ও গরু আটকালো না। অথচ ফতুল্লার পাগলা তালতলা নতুন হাটের লোকজন জোর করে গরুগুলো নামিয়ে তাদের হাটে নিয়ে গেল।
হযরত আলী বলেন, ১৯টি গরু যখন পাগলা তালতলা হাটের লোকজন জোর করে গরু নামিয়ে নেয়। এর কিছুক্ষণ পর তাদেরকে গরুগুলো ছেড়ে দিতে বলি। তখন তারা বলে গরু নিয়ে যেতে হলে ২০ হাজার টাকা লাগবে। পরে একটি গরু ৬ হাজার টাকা লোকসানে বিক্রি করে ২০ হাজার দিতে চাইলে তারা ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছে। । এত টাকা কোথায় পাব?
এ ব্যাপারে পাগলা তালতলা অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার শাহ আলম গাজী টেনু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার হাটে গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানি না। কয়েকজন লোক আমার হাট থেকে গরু নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে আমাকে মিষ্টি খাওয়াতে চাইলে আমি না করেছি। তাদের বলেছি আপনারা থাকেন আপনাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে সরকারী দলের নেতা ও ক্যাডাররা কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে রাস্তায় এবং নদী পথে জোরপূর্বক গরু ব্যবসায়ীদের মারধর করে নিজেদের হাটে গরু নামিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত গরুর ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
যেসব হাটে জোরপূর্বক গরু নামিয়ে নেয়া হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- পাগলা তলাতলা গরু হাট, সাইনবোর্ড গরু হাট, সৈয়দপুর গরু হাট, গোগনগর গরু হাট। এছাড়া নদী পথে বন্দরের হাটগুলোতে জোর করে গরু নামিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাসহ আশেপাশের উপজেলাগুলোতে একই ভাবে ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে হাটে নিয়ে যাচ্ছে হাটের লোকজন।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, এমন কিছু বিষয় লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু কোনো ব্যবসায়ী বা সুনির্দিষ্ট কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেনি। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) শরফুদ্দিন জানান, কোরবানির পশুর হাটে গরু ব্যবসায়ীদের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। আর পাগলা তালতলার গরুর হাটের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/আরআইপি