বান্ধবীর আগুনে দগ্ধ রেখার স্বামীর আত্মসমর্পণ
ফাইল ছবি
রাজশাহীতে বান্ধবীর দেয়া আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ গৃহবধূ রেখা বেগমের স্বামী কামরুল ইসলাম (৪৯) পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছেন। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন কামরুল। আজ রোববার তাকে আদালতে তোলার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পেশায় ঠিকাদার কামরুল হুদা নগরীর তেরোখাদিয়া শান্তিবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কামরুলের স্ত্রী রেখা বেগম (৪০) নগরীর দরগাপাড়া এলাকায় অগ্নিদগ্ধ হন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ওই গৃহবধূ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বান্ধবী ফেরদৌসী বেগমকে ওই দিন রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
ফেরদৌসী বেগম নগরীর পাঠানপাড়া এলাকার আব্দুল লতিফের স্ত্রী। তার বাবা আলম হোসেনের বাড়ি ঘটনাস্থলের পাশের কসাইপাড়া মহল্লায়।
অভিযোগ রয়েছে, কামরুলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ফেরদৌসী। এতে বাধা দেয়ায় রেখা বেগমকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন তিনি। এনিয়ে রেখার ভাই নওশাদ আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় কামরুল ইসলামকেও।
পরদিন ওই মামলায় গ্রেফতার ফেরদৌসী বেগমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে নেয় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন কামরুল।
এ ঘটনায় গ্রেফতার রেখা বেগমের বান্ধবী ফেরদৌসী বেগমের রিমন্ড চেয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া কথা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার পরিদর্শক সেলিম বাদশা।
তিনি জানান, বিকেল ৪টার দিকে কামরুল তার এক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে নিজের পরিচয় দেন। এ সময় তাকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, অগ্নিদগ্ধ দুই সন্তানের জননী রেখা বেগম এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসক আফরোজা নাজনিন। আগুনে তার শরীরের ৮০ ভাগ পড়ে গেছে। এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।
রেখা বেগমের ভাই নওশাদ আলীর ভাষ্য, তার বোন জামাই কামরুল ইসলামের সঙ্গে রেখার বান্ধবী ফেরদৌসীর পরকিয়ার চলছিলো দীর্ঘদিন ধরেই। তাতে বাধা দেয়ায় শুরু হয় অশান্তি। পরিত্রাণ পেতে বৃহস্পতিবার বিকেলে হযরত শাহ মখদুম (রা.) মাজারে যান রেখা। সেখানে মাগরিব নামাজ আদায় শেষে দোয়া করেন।
পদ্মাপাড় ধরে বেরিয়ে যাবার সময় আগে থেকেই অবস্থান নেয়া ফেরদৌসী রেখার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান। প্রাণ বাঁচাতে এসময় পদ্মায় ঝাপ দেন রেখা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
ফেরদৌস সিদ্দিক/এফএ/এমএস