সেই মরিয়মের পুনরায় ঠাঁই হলো ঢামেকে
গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার মরিয়ম বেগমের (৩৬) পুনরায় ঠাঁই হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের বার্ন ইউনিটে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৪১২নং রুমে চিকিৎসাধীন।
এর আগে অর্থের অভাবে মরিয়ম বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছেড়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হন।
আরও পড়ুন : স্ত্রীর যৌনাঙ্গে গরম রডের ছেঁকা দিয়ে স্তন কেটে দিল স্বামী
সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় মরিয়ম বেগমকে ঢাকায় পাঠানো হয়। উপজেলা সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের আর্থিক সহযোগিতায় তাকে ঢাকায় পাঠানো। এদিকে একই দিন ব্র্যাকের লিগ্যাল সাপোর্টে নির্যাতনকারী স্বামী তমিজ উদ্দিনের (৫০) বিরুদ্ধে প্রস্তুতি চলছে নারী নির্যাতন মামলার।
নির্যাতনকারীর মা খোসআক্তারের বরাত দিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার শাহানাজ আক্তার জানান, গত সোমবার (৪-৭ সেপ্টেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার চার দিন ঘরে আটকে রেখে স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ওপর নির্যাতন চালায় স্বামী তমিজ উদ্দিন। এসময় রড গরম করে স্পর্শকাতর অঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেয়। কেটে ফেলা হয় স্ত্রীর দুই স্তনের বোঁটা। তাছাড়াও তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন করায় সেটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিষয়টি ইউএনও’র নজরে আসে। পরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরিয়মকে দেখতে যান তিনি। এ সময় তিনি নির্যাতিতার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন : মধ্যযুগীয় কায়দায় মাকে নির্যাতন, বাবার বিচার চান ছেলে
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, বিষয়টি খুবই অমানবিক। স্থানীয়ভাবে ওই নির্যাতিতার চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অফিসের পক্ষ তাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। তাছাড়া চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় তাকে সোমবার সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ব্র্যাক কালীগঞ্জ শাখার প্রতিনিধি মো. রাশেদুল হক জানান, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর চিকিৎসা ও আইনি সহায়তায় কাজ করছেন তারা। এ ব্যাপারে ব্র্যাকের লিগ্যাল সাপোর্টে গাজীপুর জজ কোর্টে লিগ্যাল এইডে নির্যাতনকারী স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু অধিকার আইনে নারী নির্যাতন মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো. ছাদেকুর রহমান আকন্দ জানান, সোমবার সকালে নির্যাাতনের শিকার ওই নারীকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। সংবাদপত্রের মাধ্যমেই তিনি জেনেছেন এবং জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরকে ব্যবস্থা গ্রহণ করেতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আব্দুর রহমান আরমান/এমএএস/এমএস