প্রেম করে বিয়ে করায় প্রেমিকের পরিবার গ্রাম ছাড়া
প্রেম করে বিয়ে করায় এক প্রেমিকের পরিবারকে মারপিট ও বসতবাড়ি ভাঙচুরিএবং লুটপাট করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে স্ত্রীকে দিয়ে জোরপূর্বক ডিভোর্স করিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে মেয়ের পরিবার। এ অবস্থায় গ্রামছাড়া হয়ে ছেলের পরিবার অন্য গ্রামে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের হাওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে এলাকার মাতব্বররা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দেয়ায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না ছেলের পরিবার।
স্থানীয়রা জানায়, হাওড়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে আল-আমিনের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের ১২ বছর প্রেমে চলার পর ২০১৫ সালের ৫ মে ঢাকায় বিয়ে হয়।
কিন্তু চাকরি না হওয়ায় দুজনই বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখে। এ অবস্থায় সুমাইয়ার বাবা সিরাজগঞ্জ শহরের তেলকুপি গ্রামের সাবেক এক চেয়ারম্যানের ছেলে দুবাই প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক করায় আল-আমিন বিয়ের বিষয়টি ফাঁস করে দেয়।
বিয়ের কথা শুনে সুমাইয়ার বাবা সোবহান, ভাই এনামুল, এমদাদুল, সালাহ উদ্দিন, আমজাদ ও লিটনসহ সুমাইয়ার স্বজনরা আল-আমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের মারপিট এবং বসতবাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়।
একই সঙ্গে সুমাইয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ডিভোর্স করিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য দিন-তারিখ নির্ধারণ করেছে তার পরিবার।
এ বিষয়ে আল-আমিন বলেন, আমরা দুজন কোর্টে বিয়ে করে প্রায় আড়াই বছর গোপনে সংসার করেছি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। আমাদের স্মৃতির অনেক ছবি রয়েছে। চাকরি না হওয়ায় জমি বিক্রি করে বউকে শাড়ি-গহনাসহ সবকিছু কিনে দিয়েছি। কিন্তু সুমাইয়ার বাবা-ভাই সুমাইয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করায় বিয়ের বিষয়টি ফাঁস করা হয়।

এ কারণে তারা আমার পরিবারের সবাইকে মারপিট ও ঘরবাড়ি লুট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মাতব্বরা মামলা করতে নিষেধ করায় মামলা করতেও পারছি না। বর্তমানে আমরা গ্রাম ছেড়ে অন্য বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। তারপরও সুমাইয়ার স্বজনরা বিভিন্নভাবে মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে।
আল-আমিনের বাবা রেজাউল করিম বলেন, আমাদের মারপিট করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়ার পর মাতব্বরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেবে বলে মামলা করতে নিষেধ করে। এ জন্য মামলা করা হয়নি। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও মাতব্বরা শুধু আশ্বাস দিচ্ছে।
জানতে চাইলে এলাকার মাতব্বর হাজি আবুল হোসেন, আমজাদ হোসেন, শাহআলম ও বেলাল হোসেন জানান, ঘটনাটি শোনার পর থেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো পক্ষই এগিয়ে না আসায় মীমাংসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে সুমাইয়ার ভাই এনামুল তার বোনের সঙ্গে আল-আমিনের সম্পর্ক-বিয়ে ও তাদের বসতবাড়ি ভাঙচুরের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, গ্রামের লোকজন তাদের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা এর সঙ্গে জড়িত না।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/এমএস