ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি : ১০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দী

প্রকাশিত: ০৩:২০ এএম, ১৪ জুন ২০১৫

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বোরবার সকাল থেকে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে চরাঞ্চলের ১০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এর আগে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। বিকাল ৩টায় ৪ সেন্টিমিটার উপরে ও বিকাল ৬টায় বিপদসীমার ( বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০মিটার) ১০ সেন্টিমিটার, রোববার সকাল ৬টায় ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান বন্যা কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। তিস্তা পাড়ের চরাঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে কাজ করে ইউপি চেয়ারম্যানগণ। রাতে তিস্তা পাড়ের কয়েক শতাধিক পরিবার আশ্রয় নেয় বলে জানা যায়। সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো বাড়িতে ফিরে যায়। চরাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ি কোমর থেকে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানান তিস্তা ব্যারাজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুরুতুজ্জামান। এছাড়া তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে রয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম ও নদীর চর প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোটখাতা, পশ্চিম বাইশপুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর, কিসামত ছাতনাই, পূর্বছাতনাই ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতারচর, ভাষানীর চর, কিসামতের চর, ছাতুনামা। এ চরাঞ্চলের ৪ হাজার পরিবারের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, শনিবার দুপুর থেকে তিস্তার নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।

খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জানায়, কিসামত ছাতনাই চরের প্রতিটি বাড়ি হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। উক্ত গ্রামের ২৫০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তফেল উদ্দিন জানায়, রাতে ২শতাধিক পরিবাবের লোকজন গরু ছাগলসহ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জাগো নিউজকে জানায়, তিনি বন্যাকবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে উপজেলার ৭টি ইউপি চেয়ারম্যানদের চরাঞ্চলে বসবাসতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিম বাইশপুকুর ও পূর্ব বাইশপুকুর গ্রামের বাঁধে গ্রাম পুলিশসহ ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বন্যা কবলিত স্থান পরিদর্শন করছেন।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, তিস্তা নদীর পানি রোববার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্ট বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় ২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার প্রবাহিত হচ্ছে।

জাহেদুল ইসলাম/এসএস/এমএস