ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কমেনি চালের দাম, মন্ত্রীদের কথা শুনছেন না মিলাররা

জেলা প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া | প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সিন্ডিকেট করে চালের বাজার অস্থির করার অভিযোগে চালকল মালিকদের নিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে বৈঠক করেন সরকারের তিন মন্ত্রী।

ওই বৈঠকে মিল মালিকরা ঘোষণা দেন চালের মূল্য দুই থেকে তিন টাকা কমানো হবে। গত এক মাসে কেজিতে ১২ টাকা দাম বাড়লেও মাত্র দুই টাকা কমানোর আশ্বাসে বৈঠকে বাজার অস্থিতিশীল করা মিলারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

উল্টো নতজানু হয়ে তাদের তিন দাবি মেনে নেয়া হয়। তবে মন্ত্রীদের কাছে দেয়া কথা রাখেননি মিল মালিকরা। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এক টাকাও চালের দাম কমাননি তারা।

এদিকে, সরকারের কোনো পদক্ষেপেই ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজারে প্রভাব ফেলছে না। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর চালের মোকাম কুষ্টিয়ার বাজারে এখনও সব ধরনের চাল সেই আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন মজুতদারদের লাগাম টানতে মাঠে নামলেও কোনো সুফল আসছে না। বরং সেই অস্থিরতার মধ্যেই রয়েছে। খুচরা বাজারে চিকন চাল মিনিকেট এখনও বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়, কাজললতা ৫৬ এবং আটাশ ও মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৫ টাকা কেজিতে।

গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশীদের মিলসহ বেশ কয়েকটি বড় মিলে টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়েছে।

নামমাত্র অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলেও বড় ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি টাস্কফোর্স। যদিও একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, রশীদ অ্যাগ্রো ফুডসহ প্রায় ৭০টি মিলে বিপুল পরিমাণ ধান ও চালের অস্বাভাবিক মজুদের প্রমাণ মিলেছে।

সর্বশেষ গত সোমবার টাস্কফোর্স বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে এবং মঙ্গলবার সচিবালয়ে তিন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেশের চালকল মালিকদের বৈঠকের পর চালকল মালিকরা চালের দাম কমানের ঘোষণা দিলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

কুষ্টিয়ার পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী রঞ্জুর রহমান নিশান বলেন, চালের বাজার আগের মতোই অস্থির রয়েছে। মোকামে দাম কমেনি। তাই বর্ধিত দামেই চাল বিক্রি করছি।

জেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, চালের বাজারে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। বাজার পরিস্থিতি এখনও আগের মতোই। তবে দুই একদিনের মধ্যে বাজারে চালের দাম কমে আসবে।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ জানান, ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। মোকামে কেউ চাল কিনতে আসছেন না। মিলাররা চাল দুই-এক টাকা কমে বেচতে চান। কিন্তু চাল কেনার কোনো ক্রেতা নেই।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ফ্রেশ অ্যাগ্রোফুডের মালিক ওমর ফারুক বলেন, সোমবার টাস্কফোর্সের অভিযানের পর মোকাম অনেকটা থমথমে। ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। তবে খুচরা বাজারে কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। আগের সেই চড়া দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চালকল মালিক ওমর ফারুক অবশ্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন।

এদিকে, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়ার চালকলগুলোতে টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, মোকামে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী অসদুপায় অবলম্বন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আল-মামুন সাগর/এএম/আইআই