ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বরাদ্দের অর্থে বিদ্যালয়ের দেয়াল নির্মাণ হলো না

প্রকাশিত: ০৮:৪০ এএম, ১৬ জুন ২০১৫

নড়াইলের লোহগড়া উপজেলার জনবহুল ইউনিয়নের নাম হলো দিঘলিয়া।  ইউনিয়ন পরিষদের গা ঘেসে দিঘলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।  এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩১২ জন।  ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের ফলাফল পার্শ্ববর্তী স্কুলগুলোর তুলনায় ভালো হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীর চাপ বেশি।

বিদ্যালয়টি দিঘলিয়া বাজারের পাশে অবস্থিত হওয়ায় শোরগোল একটু বেশি।  এছাড়া বিদ্যালয়ের গা ঘেসে চলে গেছে দিঘলিয়া-কোটাকোল লঞ্চ ঘাটের রাস্তা।  নদী পার হলে সোজা গোপালগঞ্জ।  এখান দিয়ে সব সময়ই ভারি ট্রাক, ট্রলিসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে থাকে।  এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইদ্রিস মোল্লা জাগো নিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের পাশে রাস্তায় দেয়াল না থাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ছেলে মেয়েরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়।  

দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থ বছরে বিদ্যালয়ের দেয়াল নির্মাণে দেড় মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।  যা দিয়ে অদ্যাবধি বিদ্যালয়ের দেয়াল নির্মাণ করা হয়নি।  

ওই কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউপি মেম্বর ছানোয়ার হোসেন মৃধা জাগো নিউজকে জানান, চেয়ারম্যান মাসুম আমাকে দেয়াল  নির্মাণের টাকা তুলে দিতে বলেন এবং সেই অর্থ চেয়ারম্যান নিজের কাছে নিয়ে নেন।  মাসুম বলেন, পরে আরো কিছু টাকা যোগ করে স্কুলের দেয়াল নির্মাণ করা হবে।  এরপর আমি কিছু ইট আনলেও পরে তা চেয়ারম্যান বিক্রি করে দেন।  

বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক মধু মঙ্গল বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানান, চেয়ারম্যান আমাকে ডেকে বললেন, এই টাকায় তো দেয়াল হবে না আমি আরেকটি প্রকল্প যোগ করে সুন্দর দেয়াল নির্মাণ করে দেব।  তবে আজো তিনি তার কথা রাখেননি।  দেয়াল না থাকায় ইতোপূর্বে ২টি শিশু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানান, আমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখেছি যে, আমাদের বিদ্যালয়ের পাশের দেয়াল করার জন্য টি আর-এর কাজ নেয়া হয়েছে, কিন্তু সেই কাজ করা হয়নি।  প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিকে জিজ্ঞেস করলে উনি চেয়ারম্যানের কাছে টাকা তুলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।  কেন কাজ করেননি তা চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবেন।

এছড়া ও ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের এলজিএসপি, টিআর, কাবিখা ও এডিপির বরাদ্দকৃত  অন্তত ১০টি প্রকল্পের কাজ চেয়ারম্যান ইউপি মেম্বরদের বাদ দিয়ে তার নিজের কাছের লোককে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান বানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়নের ৮ জন ইউপি সদস্য।  এলাকার এসকল দুর্নীতি বিষয়ে তারা খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগের শেষ নেই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।  তিনি অতি দরিদ্রদের উন্নয়ন প্রকল্পের (ভি জি ডি) ৩০ কেজি চালের বিপরীতে প্রতিজনকে ৫/৭ কেজি করে চাল কম দিয়েছেন বলে উপকারভোগীরা জানান।  চাল কম দেবার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় হলে ইউএনও পরিষদের গোডাউন সিলগালা করে দেন।  এরপরও আবার একই ধরনের দুর্নীতিতে মেতে আছেন চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহম্মদ মাসুম।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের বিদুৎ লাইন নিজের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের অভিযোগ আছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।  ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান বকেয়া বিদুৎ বিল প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।  যার সিংহভাগই চেয়ারম্যানের ব্যবহারের ফলে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সচেতন ব্যক্তি।

এলাকার অধিকাংশ উন্নয়নমূলক কাজের অবস্থা একই রকম বলে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীসহ ইউপি সদস্যরা জানান ।


ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান সর্দার জাগো নিউজকে জানান, চেয়ারম্যান এলাকাতেই থাকেন না ।  ঢাকায় বসে নিজের কিছু লোক দিয়ে পরিষদের কাজকর্ম পরিচালনা করেন।  এতে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।  চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের দ্বায়িত্বে থাকা নড়াইলের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনন্দ কুমার বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানান,  দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ শুনেছি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সকল অভিযোগের ব্যাপারে দিঘলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহম্মদ মাসুমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে জানান, এসব বিষয় লিখলে আমার মান সন্মান যাবে, সুতরাং নিউজ না করার জন্য তিনি অনরোধ করেন।

হাফিজুল নিলু/এমজেড/আরআইপি