ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঈদে নতুন নকশা বুনছেন জামদানি শিল্পীরা

প্রকাশিত: ০৪:৫২ এএম, ১৮ জুন ২০১৫

রমজান শুরু হচ্ছে শুক্রবার থেকে। ঈদের ব্যস্ততার যেন এখন থেকেই। তাই ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে রূপগঞ্জের জামদানি পল্লীর তাঁতীদেরো। দেশের একমাত্র জামদানি পল্লীর ঘরে ঘরে এখন চলছে শাড়ি তৈরির কাজ। জামদানি পল্লীর আশপাশের গ্রামগুলোর তাঁতীরাও এখন জামদানি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কাপড়ে সুতা তোলা, সুতা রঙ করা, শাড়ি বুনন আর নকশার কাজে দিন-রাত ব্যস্ত জামদানি শিল্পীরা। পুরুষের পাশাপাশি নারী, ছেলে বুড়ো সবাই শ্রম দিচ্ছেন সমান তালে। এবার আরো উন্নত এবং নতুন নতুন নকশার শাড়ি তৈরি করছেন এখানকার শিল্পীরা।

 রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার পথ পেরুলেই রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভা। শীতলক্ষা নদীর কোল ঘেঁষা নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী এ পৌরসভারই অর্ন্তগত। এক সময় এটি ছিল অজোপাড়াগাঁ। জামদানী শিল্প এ গ্রামের চেহারা বদলে দিয়েছে। জামদানি শিল্পের গ্রাম হিসেবে এলাকাটি এখন সবার পরিচিত। জামদানী পল্লী  হিসেবেই মানুষ একে চেনে এখন। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এক সময়ের বিশ্বখ্যাত মসলিন শাড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইংরেজরা এ শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়ার পর গ্রামের মানুষ আবার ফিরে যান কৃষি পেশায়। বৃটিশদের পতনের পর মসলিন শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের বংশধররা আবারো মসলিন তৈরির কাজে হাত দেন। কিন্তু তারা মসলিন বানাতে ব্যর্থ হন। ওই আদলেই তৈরি করেন নতুন এক শাড়ি। যা আজকের জামদানি। এ  জামদানিও আজ জগত বিথ্যাত। লাভজনক হওয়ার কারণে গ্রামের অনেকেই এগিয়ে আসেন জামদানি তাঁত প্রতিষ্ঠায়।

পার্শ্ববর্তী রূপসী, কাকিনা, মৈকুলী, বরাব গ্রামের অনেক পরিবার এ কাজে এগিয়ে আসেন। তারাও গড়ে তোলেন তাঁত কারখানা। গ্রামের ঘরে ঘরে গড়ে উঠে তাঁত কারখানা।  জামদানি  তাঁত কারখানা প্রতিষ্ঠা করে মালিকদের অনেকেরই বদলে গেছে জীবনযাত্রা। এ শিল্পই তাদের জীবনে বয়ে এনেছে সুখের দিন। কিন্ত শিল্পীরা সেই অন্ধকারেই রয়ে গেছেন।

গ্রাম জুড়ে সারিসারি তাঁত। ঈদকে সামনে রেখে চোখে পড়ে শিল্পীদের কর্মচাঞ্চল্যতা। প্রায় প্রতিটি ঘরে তাঁতের কাজ চলছে। কেউ সুতা কাটছেন কেউ ব্যস্ত হাতে তাঁত টানছেন। সুতা ভরছেন কেউ; কেউবা সহযোগিতা করছেন অন্যজনকে। বাজারে এ শাড়িই ঢাকাই জামদানি নামে পরিচিত। আর একটু এগুলেই রূপসী, কাজীপাড়া,পবনকুল ও মোর্গাকুলের অবস্থান। মূলত এ কয়টি গ্রামেই জামদানি শাড়ি তৈরি হয়।

রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার পথ। নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে তৈরি হচ্ছে এ বাহারি শাড়ি। গ্রামের রাস্তাটা বেশ আঁকাবাকা নদীর সঙ্গে খেই মিলিয়ে চলেছে। রাস্তার দু’ধারেই অসংখ্য তাঁত চোখে পড়বে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারই কোননা কোনোভাবে জামদানি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কেউ সরাসরি কাপড় উৎপাদন করেন, কেউ তাঁতী; কেউ সুতা বিক্রেতা; আবার কেউ বিদেশে কাপড় রফতানির কাজে জড়িত। প্রতি পরিবারেই গড়পরতা ২/১টি তাঁত রয়েছে। তাঁতিরা সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। একটু ফিরে তাকানোরো যেন ফুরসত নেই তাদের। এখানকার জামদানি তাঁতীদের অধিকাংশেরই বয়স ১২ থেকে ৩০ এর মধ্যে। বয়স্ক তাঁতী নেই তা নয়। তবে কম বয়সী তাঁতীরাই জামদানির কাজের সঙ্গে জড়িত।

জামদানি শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তারা অত্যন্ত ধৈর্যশীল। অলস কেউ এ শিল্পে টিকে থাকতে পারেন না। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত কাজ সারা দিন করার মানসিকতা অনেকের থাকে না। তাই অল্প বয়স্করাই এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হন।  সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের কিছু কিছু এলাকায়ও এ শিল্পের মহিমা ছড়িয়ে আছে। মূলত জামদানি শাড়ির কী দেশ কী বিদেশ কোথাও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

একটি শাড়ি তৈরিতে ১ সপ্তাহ থেকে ২ /৩ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সময় আর কাজের উপর দাম নির্ভর করে। এই বস্ত্রের জমিন একাধিক রংঙের হয়ে থাকে। জামদানি তাঁতীদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। কেবল রয়েছে বংশানুক্রমিক হাতে কলমে অর্জিত জ্ঞান। এ শাড়ি যে কেউ তৈরি করতে পারেন না। ভারতসহ পাশ্ববর্তী ২/১টি দেশ বহুবার চেষ্টার পরও এ শিল্প রপ্ত করতে পারেনি। এমনকি  বাংলাদেশের সব এলাকায় এ শিল্পের প্রসার ঘটেনি। নোয়াপাড়াকে এ শিল্পের ঘাটি বলা যায়। লোকে বলে নোয়াপাড়া নাকি এ দেশের রাজ টিকা। নোয়াপাড়ার মসলিন শিল্প ছিল জগৎ বিখ্যাত। এখন এখানকার জামদানির সুনামো বিশ্ব জোড়া।

মীর আব্দুল আলীম/এমজেড/আরআইপি