ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চুরির অপবাদে শ্রমিকের পা ভাঙলেন কাউন্সিলর

জেলা প্রতিনিধি | নাটোর | প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৭

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় চুরির অভিযোগে ফারুক হোসেন নামে এক শ্রমিককে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে বড়াইগ্রাম পৌরসভার কাউন্সিলর মাসুদ রানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

আহত ওই শ্রমিক নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ফারুক হোসেন উপজেলার মৌখড়া চৌকিদারপাড়ার কাশেম আলীর ছেলে।

আহতের বাবা কাশেম আলী ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাজারের একটি চায়ের স্টলে চুরির অভিযোগে বড়াইগ্রাম পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদ রানা ও তার সহযোগী মোস্তফা, করিম, বাবু, সাইদসহ কয়েকজন ফারুক হোসেনকে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তারা চুরি হওয়া টাকা ফেরত দিতে বললে সে চুরি করেনি বলে জানায়। এতে কাউন্সিলর মাসুদ রানা ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক হোসেনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে এবং তার পা ভেঙে দেয়।

এ সময় ফারুক হোসেন আঘাত সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পরে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরদিন সকালে তার স্বজনদের ডেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ঘটনার পর আঘাতের স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হলে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফারুককে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে কাউন্সিলরের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না এবং থানায় কোনো অভিযোগ করতে পারছে না।

আহত ফারুক হোসেন বলেন, কাউন্সিলর মাসুদসহ কয়েকজন লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করাই। ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হই।

ফারুকের বড় বোন ফাহিমা খাতুন জানান, তার ভাইকে যারা আহত করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। ডাক্তরা ফারুককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেছে। তাদের কাছে চিকিৎসা করার মতো টাকা নেই।

বড়াইগ্রাম পৌরমেয়র বারেক সরকার জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। প্রকৃত ঘটনা জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি অস্বীকার করে প্রথমে বলেন, ফারুক হোসেন নামে কাউকে চিনি না। একটু পর বলেন, শুনেছি পড়ে গিয়ে ফারুকের পা ভেঙে গেছে। কিছুক্ষণ পরে বলেন, ফারুক মাদকাসক্ত। চুরির অপরাধে গণপিটুনিতে তার পা ভেঙে গেছে।

নাটোর সদর হাসপাতালের সিনিয়র সার্জন ডা. গোলাম কিবরিয়া জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলেটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার ডান পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। বেশ কয়েকটা অপারেশন করতে হবে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার খাঁন জানান, এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবুও সংবাদকর্মীদের কাছে খবর পেয়ে ওসি সৈকত হাসান বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

রেজাউল করিম রেজা/এএম/আইআই