দর্শনা চিনিকলে ২৫ দিনে ৩০ লক্ষ টাকার চিনি বিক্রি
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের নির্দেশে গত মাসের ২৫ তারিখ থেকে এক কেজি করে চিনি প্যাকেটজাত করে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে তাতে বেশ সাড়া পড়েছে বলে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু চিনিকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত ২৫ দিনের ব্যবধানে নতুন এই প্রক্রিয়ায় কেরু চিনিকল থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার চিনি বিক্রি হয়েছে। উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু চিনিকলে উৎপাদিত গত ৪ মৌসুমের প্রায় সাড়ে ৬৬ কোটি টাকা মূল্যের চিনি অবিক্রিত অবস্থায় গুদামজাত হয়ে পড়ে রয়েছে।
চিনিকল সূত্রে জানা যায়, গত ২০১১-১২ আখ মাড়াই মৌসুমের ২ হাজার ৪ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন, ২০১২-১৩ মৌসুমের ৪ হাজার ৮শ ৭৪ দশমিক ৯০ মে. টন, ২০১৩-১৪ মাড়াই মৌসুমের ৬ হাজার ২শ ৪৮ দশমিক ২০ মে. টন এবং ২০১৪-১৫ মাড়াই মৌসুমের ৪ হাজার ৭শ ৮০ দশমিক ১৩ মে. টনসহ মোট ১৭ হাজার ৯শ ২৯ দশমিক ১৫ মে. টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। যা প্রতি কেজি চিনি ৩৭ টাকা দরে বর্তমান বাজার মূল্য ৬৬ কোটি ৩০ লক্ষ ৮২ হাজার ৫শ ৫০ টাকা।
এসব চিনি কেরুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ডিস্টিলারি গোডাউনসহ কেরুর নিজস্ব গোডাউনে গুদামজাত করে রাখা হয়েছে। চিনি বিক্রির অচলাবস্থা কাটাতে সম্প্রতি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন কর্তৃক এক নির্দেশনায় এক কেজি করে একটি প্যাকেটের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৪২ টাকা।
এ বিষয়ে কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম আরশাদ হোসেন জানান, নতুন করে এই বাজারজাত প্রক্রিয়া শুরু করায় চিনি বিক্রির ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে চিনির চাহিদা বেড়েছে, স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করার জোর চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো জানান, গত ২৫ দিনের ব্যবধানে এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার চিনি বিক্রি হয়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে চিনি বিক্রির বাজার প্রসারিত হবে বলে আশা করছি।
সালাউদ্দীন কাজল/এমজেড/আরআই