ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কক্সবাজারে ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনাকাঙ্খিত বন্যা ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট সব মিলিয়ে বছরের শেষ সময়ে এসে চালের দাম অস্থির করেছে সব পেশার মানুষকে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণ না থাকা ও উৎপাদন কমে আসায় সুবিধাভোগীরা এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও চালের সংকট ঠেকাতে সরকার নানা উদ্যোগে কাজ করছে। এর পাশাপাশি উৎপাদন বাড়িয়ে সংকট দূরিভূত করতে চাষে মনোযোগী করা হচ্ছে কৃষকদের।

পুরোদমে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের সার ও বীজে ভর্তুকির ব্যবস্থা করেছে কৃষি বিভাগ। তবে এ সুযোগের আওতায় আসেনি কক্সবাজারের কৃষকরা। এরপরও নব উদ্যমে আমন উৎপাদনে এখানকার কৃষকরা কাজ করছেন। গেল বছর ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় এ বছর আমনে বাড়তি আগ্রহ কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮ উপজেলায় এবার ৭৭ হাজার ৭৩৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন চাল। ইতোমধ্যে শতভাগ আমন চারা বপন শেষ হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, আমন মওসুমে উফশী, স্থানীয় এবং হাইব্রিড এ তিন জাতের ধানের আবাদ করা হচ্ছে। হাইব্রিড জাতের ৯৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা র্নিধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩০৮ মেট্রিক টন। উফশী জাতের ৬৮ হাজার ৯৮৮ হেক্টরে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন। আর স্থানীয় জাতের ৭ হাজার ৮শ হেক্টরে ৩১ হাজার ১০৪ মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আ.ক.ম শাহারিয়ার জানিয়েছেন, মওসুমের শুরুতে ২ দফা বন্যার কারণে রোপা সংকটের ধকল কাটিয়ে পুরোদমে আবাদ শেষ করেছে কৃষকরা। গত বছরের মতো এ বছরও আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে নিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। মাঠকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেন কৃষকরা ভালোভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারে। নিয়মিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নিবিড় বার্ষিক সফল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে জেলায় আমন মওসুমে ৭৭ হাজার ৭৩৩ হেক্টর জমিতে আবাদের বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৯ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন।

উপজেলা ভিত্তিক আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় চকরিয়ায় ১৯ হাজার ২২৮ হেক্টরে ৫২ হাজার ১১ মে. টন। পেকুয়ায় ৮ হাজার ৪৫০ হেক্টরে ২২ হাজার ৫৯৬ মে. টন। রামুতে ৯ হাজার ৪০৫ হেক্টরে ২৫ হাজার ৬৬৬ মে. টন। সদরে ৯ হাজার ১শ হেক্টরে ২৪ হাজার ৫৮৪ মে. টন। উখিয়ায় ৯ হাজার ১০ হেক্টরে ২৪ হাজার ৮৪৭ মে. টন। টেকনাফে ১০ হাজার ৮৪০ হেক্টরে ২৯ হাজার ১৮৬ মে. টন। মহেশখালীতে ৮ হাজার ২শ হেক্টরে ২২ হাজার ৫৬৮ মে. টন এবং কুতুবদিয়ায় ৩ হাজার ৫শ হেক্টরে ৮ হাজার ১২০ মে. টন।

তেমনিভাবে ৩ জাতের ধানের মাঝে ৩৭ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪৫ হেক্টরে ৩০৮ মেট্রিক টন, উফশী জাতের ৬৮ হাজার ৯৮৮ হেক্টরে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৬৬ মে. টন এবং স্থানীয় জাতের ৭ হাজার ৮শ হেক্টরে ১৩ হাজার ১০৪ মে. টন চাল।

সদর উপজেলার প্রান্তিক ও বর্গাচাষি আমান উল্লাহ, সৈয়দ করিম, মাহামদুল হক, জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ কালু জানান, গত বছর ধানের দাম চাহিদার চেয়ে বাড়তি পাওয়ায় এবার আগ্রহ নিয়ে মাঠে নেমেছি। আশা করি এ বছরও নায্যমূল্য পাব। তবে, তাদের অভিযোগ ঝিলংজা বীজ খামারে সরকারিভাবে আনা বীজ মৌসুমের শুরুতে কালোবাজারে চলে যাওয়ায় চড়া দামে বীজ কিনতে হয়েছে। এসব বিষয় তদারকি করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. শাহাব উদ্দিন জানান, আমন মওসুমের শুরুতে বার বার বন্যা হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যামাত্রা অর্জন নিয়ে শংকা ছিল। কিন্তু সঠিক সময়ে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়। এটি সম্ভব হলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের নিট উৎপাদনে অবদান রাখতে পারবে কক্সবাজার জেল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে আরাকান সংকটে মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার খাদ্যের যোগান দিতে হলে জেলায় উৎপাদনের লক্ষামাত্রা ডিঙ্গালেও সংকট থাকতে পারে।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম