পুলিশি হয়রানি বন্ধে অনশনে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পুলিশের হয়রানি থেকে রেহাই পেতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। শনিবার বেলা ১১টা থেকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, তার ছেলে বেলাল হোসেন, ছেলের স্ত্রী আলেয়া বেগম, নাতনি ঋতি ও বিথীকে নিয়ে ভূঞাপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।
পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কালিহাতী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মাসুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এটিএম ফরহাদ চৌধুরী ও ভূঞাপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক হারুনুর রশিদ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম অনশন স্থগিত করেন।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম অভিযোগ করে বলেন, ভূঞাপুর থানা পুলিশের কয়েকজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছেলে বেলাল হোসেনকে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতে বলেন। তাদের সঙ্গে কাজ না করলে তাকে মাদকের মামলাসহ বিভিন্ন মামলা দেয়ার ভয় দেখান তারা। বাধ্য হয়ে বেলাল পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে। এ সময় সে স্থানীয় কয়েকজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তবে ওই মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
ছাড়া পেয়ে ওই মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা আমার পরিবারের ওপর নির্যাতন শুরু করে। একই সঙ্গে পুলিশের সোর্স হয়ে বেলাল কাজ করছে সেটাও প্রকাশ পেয়ে যায়। এ অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় ওই পুলিশ কর্মকর্তারা আমার ছেলে বেলালকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং মামলার ভয় দেখাচ্ছেন। এর আগেও দুটি মিথ্যা মামলা করা হয় বেলালের বিরুদ্ধে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য যদি কোনো নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে হয়রানি করে এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের আইনের আওতায় এনে বিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/আরআইপি