ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার

জেলা প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া | প্রকাশিত: ০৩:২৫ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

নিষেধাজ্ঞা সত্বেও কুষ্টিয়ায় চলছে অবাধে মা ইলিশ শিকার। বিশেষ করে জেলার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে দিনরাত চলছে মা ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। আর এসব ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে প্রকাশ্যে। আড়াইশ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। যদিও স্থানীয় প্রশাসন প্রায় প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করছে।

পদ্মা নদী এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলা সত্বেও প্রকাশ্যে এবং রাতের অন্ধকারে জেলেরা মা ইলিশ ধরছেন। সন্ধ্যা নামলেই জেলেরা মাছ ধরার নৌকা নিয়ে ইলিশ ধরতে ছুটে যান পদ্মা নদীতে। আবার প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দিনের আলোয় চলছে অবাধে মা ইলিশ শিকার। প্রতিদিন জেলেরা এখানে শতশত কেজি মা ইলিশ শিকার করে বিক্রয় করছেন নির্বিঘ্নে।

দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরের আবেদের ঘাট, গুলাবাড়ি ঘাট, বেরাগীরচর বাজার, বৈরাগীরচর ঘাট, ভাগজোত বাজার, চিলমারী বাজার, বাহিরমাদি চর, বাংলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মা ইলিশ ধরা ও বিক্রি চলছে। ফিলিপনগর ইউপির সদস্য মুকুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নিয়ন্ত্রণে এবং স্থানীয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ইলিশ ধরার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শতাধিক জেলে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষক জানান, প্রতিদিনই ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। অন্যান্য সময় দৌলতপুরের পদ্মায় ইলিশ কম ধরা পড়লেও অক্টোবরের শুরু থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বর্তমানে বিপুল পরিমাণ ইলিশের আমদানি ঘটছে। আর এই সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার করছে।

অবশ্য স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন। দৌলতপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা ইলিশ শিকার করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই পদ্মা নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। ১ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক জেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দ্বারা খান বলেন, আমাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। দৌলতপুর থানা পুলিশের কঠোর নজরদারিতে মৎস্য শিকারিরা তাদের তৎপরতা চালাতে পারছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

আল-মামুন সাগর/আরএআর/জেআইএম