উপকূলে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ, হুমকির মুখে খাদ্য নিরাপত্তা
পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় দিন দিন কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। গত সাত বছরে এই জেলায় প্রায় ২৫ হাজার একর কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষি জমি রক্ষায় এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে আগামী কয়েক দশকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ২০১০ সালে পটুয়াখালী জেলায় কৃষি জমির পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১৩ হাজার ৬০০ হেক্টর। আর ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ তিন হাজার ৬১৫ হেক্টরে। নতুন বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, বাজার নির্মাণসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজে এসব কৃষি জমি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এই এলাকার প্রধান ফসল আমন ধানের উৎপাদনে এর প্রভাব এখন দৃশ্যমান। গত বছরে এই জেলায় আমনের উৎপাদন ছিল পাঁচ লাখ আট হাজার ৬০৭ মেট্রিক টন। সেখানে বর্তমান বছরে আমনের উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৫৩ হাজার ৪৫৪ মেট্রিক টন।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কৃষি জমির শ্রেণির পরিবর্তন রোধে সরকার কঠোর অবস্থান না নিলে দেশের খাদ্য নিরপত্তা হুমকিতে পড়বে।
কলাপাড়া এলাকার কৃষক মোছলেম ফকির জানান, তাদের জিম্মি করে নতুন করে আবারও তিন ফসলি কৃষি জমিতে বিভিন্ন ধরনের কলকারখানা নির্মাণে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্লুগোল্ড প্রোগ্রামের (ঢাকা) প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার এ.এস.এম শহিদুল হক বলেন, কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টিসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি। যার ফলে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি ব্যবস্থাপনা ও ফসল উৎপাদনে। তবে পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বল্প মেয়াদী ফসল আবাদ করার পাশাপাশি একই জমি থেকে কীভাবে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করা যায় সে পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের (গাজীপুর) মহাপরিচালক আবুল কালাম আযাদ জাগো নিউজকে বলেন, কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন ঘটলেও স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি কীভাবে খালি স্থানে ফলমূলের চাষ করা যায় সে দিকগুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি জমি কমায় উদ্বিগ্ন না হয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর ফলে এক জমি থেকে যেমন অধিক ফসল ঘরে তোলা যাবে তেমনি পরিবর্তিত পরিস্থিতি কিছুটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে পটুয়াখালী আমন ধান উৎপাদনে দ্বিতীয় এবং মুগডাল উৎপাদনে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। তবে কৃষি জমি কমে যাওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তনে দিন দিন উৎপাদন কমছে। এ কারণে কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের পাশপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/জেআইএম