ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আটকের পর গাড়ি বিক্রি করে দিলেন সার্জেন্ট

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ০২:৫৭ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৭

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর হাইওয়ে সার্জেন্ট মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে মহাসড়ক থেকে আটককৃত গাড়ি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সেই সঙ্গে ওই গাড়ির ব্যাটারি ও গ্যাস সিলেন্ডার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চুরি করে কাঁচপুর একটি গ্যারেজে বিক্রি করে দেন সার্জেন্ট। এ ঘটনায় গাড়িচালক ও মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী গাড়িরচালক ইদ্রিস আলী একাধিক বার গাড়ি আনার জন্য হাইওয়ে থানায় গেলে সার্জেন্ট মাহবুব আলম ও হাইওয়ে মুন্সি তাকে বকাঝকা করে বের করে দেন।

সম্প্রতি ওই গাড়ি না দিতে পেরে ইদ্রিস আলীকে হাইওয়ে থেকে আটককৃত আরেকটি গাড়ির রঙ পরিবর্তন করে দেয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সার্জেন্ট মাহবুব আলম গাড়ি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গাড়িটি থানা থেকে চুরি হয়েছে।

গাড়ির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, কাঁচপুর হাইওয়ে থাকার সার্জেন্ট মাহবুব আলম কোরবানি ঈদের কমপক্ষে ২০ দিন আগে সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়ক থেকে তার একটি নম্বরবিহীন বেবি ট্যাক্সি আটক করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে যান সার্জেন্ট।

এ সময় আরও একটি সিএনজি নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন রাতেই আটককৃত সিএনজি ৮ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন। তার কাছে এতো টাকা ছিল না বলে তার গাড়িটি ছাড়িয়ে আনতে পারেননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে গাড়ি আনতে গেলে টাকা ছাড়া গাড়ি দেয়া যাবে না বলে জানান সার্জেন্ট।

ইদ্রিস আলী আরও বলেন, পরে আমি জরিমানার টাকা দিই ১০ অক্টোবর। কিন্তু আমার গাড়ি ১৩ সেপ্টেম্বরের পর থানায় আর গাড়ি দেখিনি। ভেবেছিলাম গাড়িটি পুলিশ অন্য কোথাও রেখেছেন। এখন দেখি গাড়িটি উধাও হয়ে গেছে।

কাঁচপুর এলাকার সিএনজিচালক আবুল হোসেন জানান, কাঁচপুর হাইওয়ে থানায় দীর্ঘ সময় গাড়ি পড়ে থাকলে গাড়ির ব্যাটারি, গ্যাস সিলেন্ডার বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ খোয়া যায়। আমার সিএনজির ব্যাটারিও সার্জেন্ট মাহবুব খুলে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি গাড়ি ছাড়িয়ে এনে নতুন ব্যাটারি কিনে নিয়েছি।

মোগরাপাড়া চৌরাস্তার ব্যাটারিচালিক অটোরিকশাচালক আল আমিন বলেন, সার্জেন্ট মাহবুব আমার গাড়ির ব্যাটারি নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। ব্যাটারি চাইলে আমাকে মারধর করেছেন। এমন বহু লোকের গাড়ি আটক করে বিক্রি করে দেন সার্জেন্ট মাহবুব।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সার্জেন্ট মাহবুব ওই থানার কনস্টেবল সবুজের মাধ্যমে কাঁচপুরের বিজয়ের গ্যারেজে এসব জব্দ গাড়ির যত্রাংশ চুরি করে বিক্রি করেন।

কাঁচপুর গ্যারেজ মিস্ত্রি বিজয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আমি মাহবুব স্যারের কাছ থেকে পুরনো অনেক যন্ত্রাংশ কিনি। স্যারকে আমি একটি পুরনো গ্যাস সিলেন্ডারের জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি সিলেন্ডার দেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি।

গাড়ি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট মাহবুব আলম বলেন, বেবি ট্যাক্সি ঈদের আগে আটক করেছি সত্য। গাড়ির মালিককে এক সপ্তাহের জরিমানায় মামলা করেছি। তবে মালিক জরিমানা দিয়ে আসার পর দেখি গাড়িটি থানা থেকে চুরি হয়ে গেছে। চুরি হয়ে যাওয়ার পর মামলা দিয়েছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, গাড়ি চুরি হয়ে গেছে জানলে তো আর মামলা দিতাম না।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম আলী সিকদার বলেন, থানা থেকে গাড়িটি হারিয়ে গেছে এমন সংবাদ আমার কাছে আছে। বিক্রি করে দেয়ার সংবাদ নেই। তবে এখানে অনেক গাড়ি আটক থাকে ভুলে কেউ হয়তো এই গাড়িটি নিয়ে গেছেন।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি

আরও পড়ুন