ভারি বর্ষণে কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে
মাদারীপুরের কৃষক মো. বাবুল ফকির। তার বাড়ির বসত ঘরটির বেহাল দশা। পরিবারে রয়েছে ৮ জন সদস্য। সবার মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে প্রায় ৩ মাস আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেছিলেন।
সেখানে তার আপ্রাণ প্রচেষ্টায় সবজির ফসল ভালোই হয়েছিল। কিন্তু টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারি বর্ষণে তলিয়ে যায় সকল সবজি খেত।
এতে করে সকল সবজি বিনষ্ট হয়ে যায়। সেই সঙ্গে তার সকল স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরে তিনি দিশেহারা হয়ে এখন শুধু কান্না করছেন। কোনো সান্তনাতেই তার কান্না থামছে না।
কেবল কৃষক মো. বাবুল ফকির নয়। তার মতো আরও অনেক কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে। ফসল তোলার আগ মুহূর্তে এমন বন্যা সবার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
রোববার সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্তঞ্চল কয়ারিয়া ইউনিয়নের পূর্বচর আলীমাবাদ গ্রামের সেকান্দার ফকিরের ছেলে অসহায় কৃষক মো. বাবুল ফকির দুই একর জমিতে করলা, লাউ, টমেটো, বাঁধা কপি ও লাল শাকসহ বিভিন্ন প্রকার শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করেন।
তিনি ওই সকল সবজি চাষাবাদ করার জন্য এনজিও আশা ও ব্র্যাক থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা ঋণ নেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাকে অসহায় করে দিয়েছে। টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারি বর্ষণে ওই সবজি খেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে যায়।
এতে করে সম্পূর্ণরুপে চাষাবাদ করা সকল সবজি বিনষ্ট হয়ে যায়। সকল সবজি খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষক বাবুল ফকির এখন শুধু আহাজারি করছেন।
একই এলাকার কৃষক মো. ইউসুফ খার ১ একর জমির সবজি খেত ভারি বর্ষণে তলিয়ে গিয়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। এতে তিনিও অসহায় হয়ে পড়েন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. বাবুল ফকির মাথায় হাত দিয়ে বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। কিভাবে আমরা এখন বাঁচবো। আর কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ফসল তলিয়ে গেছে আমরা শুনেছি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে সহযোগিতা পায় তার ব্যবস্থা করা হবে।
এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/আরআইপি