সাতক্ষীরায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে গত তিনদিন ধরে চলতে থাকা থেমে থেমে ঝড়ো হওয়ার সঙ্গে ভারী বর্ষণের ফলে সাতক্ষীো জেলার নিম্নাঞ্চলসহ পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়ক হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার মৎস্য ঘের ও পুকুরের মাছ বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কুখরালী টাবরারডাঙ্গী এলাকায় ব্যাপক জলবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সেখানে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অবৈধভাবে মৎস ঘের নির্মাণ করায় শতাধিক পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ঘর-বাড়িতে হাটু পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এলাকার বাসিন্দা আল আমিন খান সুমন জানান, ঘরের মধ্যে হাটু পানি। ঘরে বসবাস করাই এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রান্না খাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

কুখরালী এলাকার শিমুল, রাহাতসহ একাধিক লোকজন জানান, ভারী বৃষ্টিতে টাবরারডাঙ্গী এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ। পানিবন্দি হয়ে গরু ছাগল নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে মানুষ। চিংড়ি ঘেরে অবৈধভাবে নেট পাটা ও বেড়িবাঁধ দেয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় এ এলাকার কয়েকশ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অথচ দেখার কেউ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, একজন জনপ্রতিনিধিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে এখানে মৎস ঘের করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ এলাকার পানি আগে এল্লারচরের খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতো। এখন সেখানে খালের মুখ আটকে মৎস্য ঘের করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাসকিন আহম্মেদ চিশতি জাগো নিউজকে বলেন, এলাকায় মাইকিং করে নেটপাটা অপসারণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া আমি নিজেই নেটপাটা অপসারণ করেছি। বর্তমানে কোথাও জলাবদ্ধতা নেই।
আকরামুল ইসলাম/এমএএস/এমএস