ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মেডিকেলে ভর্তি হওয়া মেয়েকে খরচ দিতে পারছেন না দিনমজুর মা

জেলা প্রতিনিধি | ঠাকুরগাঁও | প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

এলাকায় মানুষের কাছে সাহায্য তুলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ রামপুর এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী আশা আক্তার। ভর্তি হবার পরও আশা চিন্তিত। কারণে মেডিকেলে পড়াশুনা করার জন্য পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত হয়নি। মেয়ের ডাক্তারি পড়া অনিশ্চিত বলছেন আশার দিনমজুর মা আর্জিনা বেগম।

আশা রামপুর এলাকার মকশেদ আলী মেয়ে। তার মা আর্জিনা বেগমকে অনেক আগে ছেড়ে চলে যায় তার বাবা মকশেদ আলী। এরপর থেকেই ৩ কন্যা সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় মা আর্জিনা বেগমকে।

আর্জিনা বেগম শুরু করেন ৩ কন্যা সন্তানকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন। সমাজের মানুষের নানা রকম বিরূপ কথা সহ্য করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন তিনি। সারাদিন দিনমজুরের কাজ করে যা উপার্জন হয় সেই টাকা দিয়ে চলে সংসার ও মেয়ের পড়াশুনার খরচ।

আর্জিনার ছোট মেয়ে আশা আক্তার। শিবগঞ্জ বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে র্উত্তীণ হয় সে। এরপরে স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে এইচএসসি ভর্তির সুযোগ হয় আশার। অনেক কষ্ট করে পড়াশুনার খরচ যোগাতে থাকে আশার মা আর্জিনা বেগম।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করে আশা। মায়ের ইচ্ছে ছিল ছোট মেয়েকে ডাক্তার বানানো। সেই স্বপ্ন নিয়ে সকলের কাছে সহযোগিতা নিয়ে ঢাকায় কোচিংয়ে ভর্তি করে দেয়া হয় আশাকে। এরপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৭৬ নম্বর মেধা তালিকায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় আশা।

আশার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে খবর শুনে গ্রামের মানুষ আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠে। কিন্তু আশার মায়ের মুখে হতাশার ছাপ দেখা দেয়। পরে এলাকার মানুষের কাছে সাহায্য তুলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় আশাকে।

মেধাবী শিক্ষার্থী আশা আক্তার জানান, আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টায় অবশেষে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। সকলের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে কীভাবে মেডিকেল কলেজের খরচ চালাবো, সেই সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। কারণ পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আমার মা। অনেক কষ্ট করে আজ এই পর্যন্ত আমাকে নিয়ে এসেছে।

আশার মা আর্জিনা বেগম বলেন, নিজের ভিটেমাটি কিছুই নেই। তিন মেয়ের মধ্যে আশা সবচেয়ে ছোট। খেয়ে না খেয়ে মেয়েটি স্কুল-কলেজ করেছে। ভালো ফলাফলে এলাকার সবার সহযোগিতায় মেডিকেলে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখন আশাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। পরবর্তীতে খরচ কীভাবে যোগাড় করব ভেবে পাচ্ছি না।

শিবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার মেয়ে মেধাবী ছাত্রী আশা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে আমরা গর্ববোধ করছি। ছোট থেকেই স্কুলে আশা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। দরিদ্র হওয়ায় শিক্ষক ও এলাকায় মানুষের সহযোগিতায় আজ এই পর্যন্ত এসেছে সে। কিন্তু মেডিকেলে পরবর্তীতে খরচ যোগানোর মতো আশার মা আর্জিনা বেগমের সামর্থ্য নেই বললেই চলে। দেশের অনেক বিত্তবান ব্যক্তি রয়েছে যারা আশার দায়িত্ব নিয়ে অসহায় মানুষের সেবা করার সুযোগ দিতে পারেন।

এলাকার মানুষ এই মেধাবী শিক্ষার্থী আশার লেখাপড়াসহ পরবর্তী সহাযোগিতার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রবিউল এহসান রিপন/এমএএস/আরআইপি

আরও পড়ুন