ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অরক্ষিত সেতুতে তুচ্ছ জীবন!

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৪:৫৭ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব অংশের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুটি। মেঘনা নদীর উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সড়ক সেতুতে সন্ধ্যার পর থেকেই ওৎ পাতে স্বশস্ত্র ছিনতাইকারী চক্র। প্রায় রাতেই এই সেতুতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব ছিনতাইকারীদের কাছে অনেকটা তুচ্ছ সাধারণ মানুষের জীবন। কেননা মালামাল ছিনতাইয়ে বাধা দিলে মানুষের জীবন নিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু। কর্তৃপক্ষের বাধা উপেক্ষা করে অনেকেই পায়ে হেঁটে সেতু পার হন। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থী সেতুর নিচে নদীর তীরে বসে আড্ডা দেন। আর এ সুযোগে ওৎ পেতে থাকা স্বশস্ত্র ছিতাইকারী চক্রটি সর্বস্ব কেড়ে নেয়। নির্জন এ সেতু দিয়ে হেঁটে যাওয়া সাধারণ মানুষ ও সেতুর নিচে বসে আড্ডা দেয়া দর্শনার্থীরাই এসব ছিনতাইকারীদের মূল টার্গেট থাকে। কেউ ছিনতাইয়ে বাধা দিলেই তাকে উপর্যপুরী ছুরিকাঘাত করা হয়।

গত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সেতুর ভৈরব ও আশুগঞ্জ অংশে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এর ফলে এই সেতুতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Bridge1

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলামে সেতুতে ঘুরতে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার উরখুলিয়া গ্রামের লতিফ খানের ছেলে রাজু খান (২১)। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেতুর আশুগঞ্জ টোলপ্লাজার অদূরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন রাজু ও তার দুই বন্ধু। ছিনতাইকারীরা ছুরকিাঘাত করে রাজুর কাছ থেকে একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে আহত দুই বন্ধু রাজুকে উদ্ধার করে ভৈরবের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর গত ১ অক্টোবর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর ভৈরব অংশে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মো. আরিফ (২৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা সদরের খাগঢহর এলাকার মৃত ফজলুল করিমের ছেলে। এদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে সেতু পারাপারের সময় ডালিম (২৫) নামে এনা পরিবহনের এক সুপারভাইজের সর্বস্ব কেড়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ডালিমের আর্তচিৎকারে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ধরার চেষ্টা করেন পুলিশ কনস্টেবল আরিফ। এসময় এক ছিনতাইকারীরা ডালিম ও আরিফকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ডালিম ও আরিফকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুল আলম তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, আশুগঞ্জ অংশে রাজু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারীদের আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। আসামিদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুর নিচে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের সন্ধ্যার আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া ছিনতাই এড়াতে আমরা পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তবে ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন