ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কাগুজে সুপেয় পানি

জেলা প্রতিনিধি | সাতক্ষীরা | প্রকাশিত: ০৭:৪১ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

সাতক্ষীরায় শতকরা কতভাগ মানুষ সুপেয় পানি পান করছেন তার কোনো সঠিক তথ্য নেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে। কাগজপত্রে ৮০ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছে- এমনটা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সুপেয় পানি পাচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম মানুষ। তবে এসব প্রকাশ না করার জন্য জাগো নিউজের কাছে অনুরোধ জানান সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ২০০২ সালে একবার বেসরকারি এনজিও সংস্থা জরিপ করলেও সেটি সঠিক হয়নি। তা ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমেও শতকরা কতভাগ মানুষ সুপেয় পানি পান করছেন তার সঠিক জরিপ করা হয়নি। কেননা জনবল সংকট রয়েছে। তবে ধারণা অনুযায়ী আমরা ৮০ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি পান করছেন বলে কাগজপত্রে উল্লেখ করি। তবে বাস্তবিক অর্থে এর থেকে অনেক কম মানুষ সুপেয় পানি পান করছেন।

সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট সব চেয়ে বেশি। এখানে গভীর নলকূপ বসালেও পানি ওঠে না। আর পানি উঠলেও সেটি একদিকে লবণাক্ত অন্যদিকে আর্সেনিকযুক্ত। আমাদের কিছু করার থাকে না। এরপর সুপেয় পানির সংকট রয়েছে তালা ও কালীগজ্ঞ উপজেলায়। সেখানেও একই অবস্থা। দেবহাটা ও কলারোয়া উপজেলাতেও রয়েছে আর্সেনিকযুক্ত পানি। গ্রামঞ্চলের মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই বিকল্প উপায় না পেয়ে এ পানি পান করেন।

সাতক্ষীরা সদরেও সুপেয় পানির সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তবে সদরের মানুষ পানি কিনেই পান করেন বেশি।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসতি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলার পর উপকূলীয় এলাকায় দেখা দেয় সুপেয় পানির তীব্র সংকট। জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থায়নে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হলেও তার যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলে জাগো নিউজকে জানান সাতক্ষীরা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাড. ফাইমুল হক কিসলু।

তিনি বলেন, জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থ নয়-ছয় হয়েছে। সঠিক ব্যবহার হয়নি, যার কারণে তার কোনো সুফল মানুষ পাচ্ছে না। সাতক্ষীরা সদরে প্রায় সব পরিবারই বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি কিনে পান করেন। তা ছাড়া শতকারা কতভাগ মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছেন তার কোনো সঠিক হিসেবও নেই সরকারি দফতরে। জরুরি ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিৎ।

শহরের আমতলা মোড় এলাকার আলতাফ হোসেন বাবু বলেন, টিউবয়েলের পানি পান করা যায় না। পানিতে আর্সেনিক। বাধ্য হয়ে পানি কিনে খেতে হয়।

আকরামুল ইসলাম/এনএফ/পিআর

আরও পড়ুন