ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নওগাঁয় সরকারি প্রকল্পের ৩৯টি বিল নেয়ার কেউ নেই

প্রকাশিত: ০৮:৪৩ এএম, ২৭ জুন ২০১৫

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী সানোয়ার হোসেন একাই ৩৯টি সরকারি প্রকল্পের বিল-ভাউচার ব্যাংকে দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিল-ভাউচার যাদের নামে রয়েছে তারা উপস্থিত না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব প্রকল্পের টাকা ছাড় দেননি। ফলে ওই ৩৯টি প্রকল্পের বিল-ভাউচারের টাকা বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শেষ সময় পর্যন্ত কেউ টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকে আসেননি।

জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলায় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দের বিপরীতে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও ব্যক্তি বিশেষের বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ রয়েছে। চলতি ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা।

সোনালী ব্যাংক বদলগাছী শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৩৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ১২ লাখ ৯০ হাজার ৬৭৫ টাকার বিল ব্যাংকে দাখিল করা হয়েছে। গত ২৩ জুন বদলগাছী হিসাবরক্ষণ অফিস বিলগুলো উত্তোলনের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

বদলগাছী সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নিরঞ্জন জাগো নিউজকে জানান, গত বুধবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী সানোয়ার হোসেন ট্রেজারির অনুমোদিত ৩৯টি বিল ভাউচার ব্যাংকে দাখিল করেন। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই কর্মচারী ব্যাংকে বিল-ভাউচার রেখে চলে যান। বিল-ভাউচারে উল্লেখিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে বিল দেওয়ার নিয়ম নেই। ব্যাংকে ৩৯টি প্রকল্পের বিল-ভাউচার আটকে থাকার বিষয়টি পিআইও জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শেষ সময় পর্যন্ত কেউ টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকে আসেনি।

পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহকারী সানোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আমি অফিসের ৩টি বিল ব্যাংকে দাখিল করেছিলাম। একটি প্রকল্পের সভাপতি আছির উদ্দিন অন্য বিলগুলো দাখিল করেছিলেন। আছির উদ্দিন একসঙ্গে এতগুলো বিল-ভাউচার কিভাবে পেলেন তা আমার জানা নেই। যা জানার পিআইও স্যারের কাছ থেকে জানবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল করিম জানান, একটি কোম্পানী প্রকল্পগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে দিয়েছে। প্রকল্পের সভাপতিরাই হয়তো কাউকে বিল-ভাউচারগুলো দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে দিয়েছিল।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত জাগো নিউজকে জানান, প্রকল্পের বিল-ভাউচার সোনালী ব্যাংকে দাখিল করার বিষয়টি শুনেছি। একসঙ্গে এতগুলো বিল অফিস কর্তৃক দাখিল করতে পারবে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পের সভাপতিরা নিজেরাই বিল-ভাউচার দাখিল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে থাকে।

এমজেড/এমএস