ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দিনে গরম রাতে শীত, শীতজনিত রোগের প্রকোপ

জেলা প্রতিনিধি | পঞ্চগড় | প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৭

কুয়াশা তেমন নেই। তবে ভোরের আকাশ, এলাকার ধানখেত, গাছের পাতা ও ঘাসের ওপর জমে থাকা শিশির ফোটা জানান দেয় শীতের আগমনি বার্তা।

হিমালয় কন্যাখ্যাত উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে শীতের পদধনি। দিনে তীব্র রোদ্র আর গরমের রেশ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা। আকস্মিক শীতের আগমনে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

দেশের অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় বরাবরই এখানে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। এ জন্য মধ্যবৃত্ত আর নিম্ন মধ্যবৃত্ত পরিবারে শুরু হয়েছে কাঁথা-কম্বল আর শীতের কাপড় দিয়ে শীত নিবারণের আগাম প্রস্তুতি। তবে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে শীত নিয়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে তাদের কোনো প্রস্তুতি নেই।

পঞ্চগড় এবং এর আশপাশ এলাকায় সাধারণত নভেম্বরের শেষ এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে নভেম্বরের শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে শীতের প্রকোপ।

কুয়াশা তেমন না থাকলেও উত্তরের ঠাণ্ডা হাওয়ায় বেড়ে যায় শীতের তীব্রতা। বেলা ১১টা নাগাদ শীতের রেশ থাকে। শীত থেকে বাঁচতে বিকেলে মানুষজনকে গরম কাপড় পরতে দেখা যায়।

তবে দিনের আবহাওয়ায় প্রখর রোদের সঙ্গে প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরছে খেটে খাওয়া মানুষের। দিনে গরম আর রাতে শীত। ঠাণ্ডা আর গরমে এই বৈরী আবহাওয়া বাড়ছে রোগ বালাই।

বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশি, ডায়েরিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত নানা রোগ। বাড়তি সতর্কতা নিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সর্দি, কাশি লেগে থাকছে।

সপ্তাহজুড়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নবজাতকসহ শতাধিক শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।

তিনদিনে শীতজনিত চার শতাধিক রোগী আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত গড়ে ২০ জন শিশু রোগী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন বলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

জন্মের পরপরই নবজাতকের শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দেখা হলো শহরের ডোকরোপাড়া মহল্লার রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি জানালেন, দুইদিন আগে জন্ম নেয়া তার কন্যা সন্তানের কোনো সমস্যা ছিল না। শনিবার রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তরিঘড়ি করে বাড়ির পাশে আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসা শেষে শিশুটি সুস্থ হয়।

সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তার বৃদ্ধা মা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। আগে কোনো সমস্যা ছিল না। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় জ্বর, সর্দি আর কাশি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে কাজ না হওয়ায় তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন তিনি।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট) ডা. মো. মুস্তাকিম আলী জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এমনিতেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। শীতের শুরুতে বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং শিশুদের শীতজনিত রোগের হার বেড়ে যায়। বর্তমানে দিনে বেশ গরম এবং রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। এ জন্য শিশুরা সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ সময় শিশু এবং বয়স্কদের ঠাণ্ডা লাগানো এবং ধুলাবালু থেকে বিরত রাখতে হবে। শিশুদের বেশি করে তরল খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে বলে জানান তিনি।

সফিকুল আলম/এএম/আইআই