ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ধর্ষককে নবজাতকের বাবা হিসেবে স্বীকৃতি

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৭

নারায়ণগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ধর্ষক মামুন মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নবজাতকের বাবা হিসেবে ওই ধর্ষককে পরিচয় দেয়ার কথা বলেছেন আদালত।

এতে ধর্ষণে জন্ম নেয়া ওই নবজাতক বাবার স্বীকৃতি পেল। ধর্ষক মামুন মিয়া (২৪) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ক্ষিরদাসাদী গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আমজাদ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ধর্ষক সোহেল মিয়া আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর রাকিব উদ্দিন আহমেদ রকিব বলেন, আদালত রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধনী-০৩) এর ৯ (১) ধারায় ধর্ষক মামুন মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামুন মিয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ১৩ ধারায় মামুন মিয়াকে ধর্ষিতার গর্ভজাত সন্তানের জন্মদাতা বাবা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, শিশুটি তার মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং বাবা সোহেল মিয়া ও মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হবে। ওই কন্যাশিশুর বিয়ের আগ পর্যন্ত সরকার ভরণপোষণ বহন করবে এবং ভরণপোষণের ব্যয় ধর্ষক মামুন মিয়ার সম্পদ থেকে আদায় করবে সরকার।

স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ের প্রলোভনে মামুন মিয়া পাশের বাড়ির দূর সম্পর্কের চাচাতো বোনকে ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

এতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিয়ের জন্য মামুন মিয়াকে চাপ দেন। পরে মামুন মিয়া গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করেন। এ ঘটনার দুই মাস পর ১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করেন তরুণী। এ মামলায় আদালত ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন।

শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর

আরও পড়ুন