আমি ভারতীয় নাগরিক নই দাবি সেই চেয়ারম্যানের
দুর্নীতিবাজ মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসীরা অতীতে সাতক্ষীরার কুলিয়া ইউনিয়নবাসীকে জিম্মি করে রেখেছিল। ২৮ বছর পর ইমাদুল ইসলাম চেয়ারম্যান হওয়ায় জনগণের মন্তব্য ছিল, ‘এবার কুলিয়া ইউনিয়ন স্বাধীন হলো’।
সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ সরকার বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলাম নিজের টাকায় ২৮টি গভীর নলকূপ বসিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। চেয়ারম্যান ইমাদুল থাকেন কুয়েত, ‘দেবহাটার একটি ইউপি চালাচ্ছেন ভারতীয় নাগরিক’ শিরোনামে সংবাদ মাধ্যমে মঙ্গলবার রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর তার জবাবে প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ সরকার বুধবার এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিকাশ সরকার ভারতীয় নাগরিক নন বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে বিকাশ সরকার বলেন, সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে জনগণ স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে ছয় হাজার ভোটের ব্যবধানে ইমাদুল ইসলামকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। পরে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সদস্য বিকাশ সরকার। মোশাররফ হোসেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার নির্বাচিত হয়ে সিঅ্যান্ডবি সড়কের জমি দোকান দখল করে তা তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি নিজে একাধিক প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেয়া, ভূমি দখল, খাস জমি দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যানের ভাই আসাদুল ইসলাম সদস্য নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে মোশাররফ হোসেন প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ ও মেম্বার আসাদুলের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেন। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সেই মোশাররফ হোসেন চেয়ারম্যান ইমাদুল তার ভাই আসাদুল এবং প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিকাশ সরকার বলেন, তিনি দেবহাটার শশাডাঙ্গা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। আমার সাত পুরুষ এখানে বসবাস করেন। ২০০৬ সাল থেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক এবং ২০১১ সাল ও ২০১৬ সালে পরপর দুইবার তিনি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। কুলিয়া ইউনিয়নের জনগণ শান্তি ও স্বস্তিতে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। অথচ একটি মহল কুলিয়া ইউনিয়নকে নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কুলিয়া ইউপি সদস্য প্রেম কুমার, রওনাকুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম, অচিন্ত্য মন্ডল, আমিরুল ইসলাম, গোলাম রব্বানি, সাবেক ইউপি সদস্য অজাবিল সরকার এবং জাহাঙ্গীর আলম, শাহিনুর রহমান, ওমর ফারুক প্রমুখ আরও উপস্থিত ছিলেন।
আকরামুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি