ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঋণের টাকা আত্মসাতে যুবক হত্যায় চাচা-ভাতিজা

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় চাঞ্চল্যকর পাওয়ারলুম শ্রমিক ইউনুছ আলী হত্যার ঘটনায় চাচার পর এবার ভাতিজা মকবুল দায় স্বীকার করেছে। শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে গ্রেফতার মকবুলের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব মহসীনের আদালতে গ্রেফতার চাচা আনোয়ারের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছে, ধার নেয়া চার লাখ টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই চাচা-ভাতিজা মিলে ইউনুছকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে দিয়েছিল।

গ্রেফতার চাচা আনোয়ার (৩৫) আড়াইহাজার উপজেলার দড়িগাঁও গ্রামের ওয়াজউদ্দীনের ছেলে। ভাতিজা মকবুল (২৮) একই গ্রামের আফতাবউদ্দিনের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম জানান, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান আড়াইহাজারের গহরদী গ্রামের আবুল কাসেমের এক মাত্র ছেলে ইউনুছ। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানায় ৬ অক্টোবর ইউনুছের বোন মল্লিকা বেগম বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মল্লিকা বেগম নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

জিডির সূত্র ধরে প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্র্যাকিং করে রোববার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আনোয়ারের দেয়া তথ্য মতে ভাতিজা মকবুলকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার স্বীকার করে চাচা-ভাতিজা মিলে ইউনুছকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে দিয়েছিল। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৬ নভেম্বর সকালে বাড়ির পেছনের একটি পুকুর থেকে ইউনুছের অর্ধ গলিত মরদেহ ও হাঁড়গোড় উদ্ধার করে। পরে পরিবারের লোকজন এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

এসআই মফিজ আরও জানান, আদালতে মকবুল স্বীকার করেছে ব্যবসা করার কথা বলে চার বছর আগে চাচা আনোয়ার ইউনুছের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিল। ওই টাকা চাইতে গেলে ওই সময়ই ইউনুছকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল আনোয়ার। পাওনা টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই চাচা-ভাতিজা মিলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/এমএস