ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

স্কুল নেই তবুও পিইসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৭

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে স্কুল না থাকলেও এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ছয়জন শিক্ষার্থী। কাগজ-কলমে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাস্তবে তার কোনো চিহ্নও নেই। উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের সরকারপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে এ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে একটি সাইনবোর্ড ছাড়া কিছুই নেই। বিদ্যালয়ের টিনসেড ঘরে একজন ভাড়াটিয়া রয়েছেন প্রায় ছয় বছর থেকে। কক্ষের ভেতর ব্রেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার কিংবা পাঠদানের উপকরণ নেই। রয়েছে খাট, টেবিল, সোফা এবং রান্নার সরঞ্জমাদি।

শরীফের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১নং কেন্দ্রে দেখা গেল সরকার পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে। এদের মধ্যে ২৩৩৮ নং রোলধারী পরীক্ষার্থী পারভেজ মিয়া বিদ্যালয় সম্পর্কে জানায়, তাদের স্কুলে একতলা বিশিষ্ট পাকা ভবন রয়েছে। তারা নিয়মিত সেখানে ক্লাস করে।

school

পরীক্ষায় অংশ নেয়া অন্যরা হলো- মারুফ হাসান (রোল-২৩৩৯), আতিকুর রহমান (রোলি-২৩৪০), এ রবিউল হাসান (রোল-২৩৪১),লুবনা জাহান ( রোল-২৩৪২) ও সিমা আক্তার (রোল-২৩৪৩)।

কেন্দ্র সচিব আফরোজা বেগম বলেন, সরকারপাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়সহ ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৭৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনের ইংরেজি পরীক্ষায় ৩৭ জন অনুপস্থিত ছিল।

সরকারপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান জানান, গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সরকারের দেয়া ৩৮ শতক জমিতে ১৯৯৪ সালে সরকারপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু ১৯৯৭ সালে সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী- বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৩৩ শতক জমি ৪০ হাত ঘর এবং প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে তিন লাখ টাকা থাকতে হবে। সে অনুযায়ী অর্থ না থাকায় বিদ্যালয়টি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। কিছু অসাধু কর্তকর্তা এবং স্থানীয় কয়েকজনের যোগসাজসে ২০১৫সালে থেকে কাগজ-কলমে পিইসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে আসছে। নিয়মিত সরকারের দেয়া বই উত্তোলন করা হচ্ছে।

school

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ (৫০), আব্দুল আল মামুন (২৩) ও লাকি আক্তার (৩০) জানান, প্রায় ছয় বছরের বেশি সময় ধরে সরকারপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ক্লাস বন্ধ। সেখানে একজন ভাড়াটিয়া কয়েক বছর ধরে আছেন। এ বিদ্যালয়ের নামে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। শতভাগ পাস দেখিয়ে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের জন্য টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভাড়া করে পরীক্ষা দেয়ানো হয়। উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

সরকারপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম বলেন, নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাজিরা ও পাঠদান চলছে। তবে বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি সটকে পড়েন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আমজাদ নামে এক ব্যক্তি জানান, বিদ্যালয়ে ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পিইসি পরীক্ষায় সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এখন পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে যাননি।

নাজমুল হোসাইন/আরএআর/আইআই