চুরি নয়, ঢামেকের সেই শিশুকে ‘দত্তক’ নেয়া হয়েছিল!
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন মাসের কন্যাশিশু জিমকে দত্তক নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আটক মনোয়ারা বেগম। তবে টাকার বিনিমিয়ে মেয়েকে দত্তক দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শিশুটির মা সুমাইয়া আক্তার মাজেদা।
মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফতুল্লার কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে শাহবাগ ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এ সময় মনোয়ারা বেগমকেও আটক করা হয়।
আটক মনোয়ারা বেগম দাবি করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল তার এক রোগী ভর্তি ছিল। একই ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি করিয়ে হাসপাতালে ছিলেন শিশুটির মা সুমাইয়া আক্তার মাজেদা। তখন থেকেই তাদের পরিচয়। টাকার অভাবে সুমাইয়া আক্তার মাজেদা তার রোগীকে চিকিৎসা করাতে সমস্যায় পড়েন। সোমবার রাতে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মনোয়ারা বেগমের কাছে দত্তক হিসেবে তিন মাসের শিশু জিমকে তুলে দেন সুমাইয়া আক্তার মাজেদা ও তার স্বামী জুয়েল মিয়া। পরে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে ফতুল্লার কাশিপুরে নিয়ে চলে আসেন মনোয়ারা বেগম।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার জুয়েল মিয়া কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৩১ অক্টোবর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। একই হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে রোগী ছিল ফতুল্লার কাশিপুরের মনোয়ারা বেগমের। সোমবার রাতে নিজের তিন মাসের শিশুকে দত্তক দিয়ে মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে জুয়েল মিয়ার স্ত্রী সুমাইয়া ১০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু রাত পোহাতে শিশু চুরির অভিযোগ দায়ের করে শাহাবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সুমাইয়া। এ ঘটনায় শাহাবাগ ও ফতুল্লা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশু জিমকে উদ্ধার করে এবং দত্তক নেয়া নারী মনোয়ারা বেগমকে আটক করে।
আটক মনোয়ারা বেগম ফতুল্লার কাশিপুর খিলমাকর্কেট এলাকার মশিউর রহমান জুয়েলের স্ত্রী। শিশু চুরির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে আসামি করা হলেও স্ত্রীকে আটক করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, আটক মনোয়ারা বেগম দাবি করেছেন- তিনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে দত্তক নিয়েছেন। কিন্তু শিশুটির মা দত্তক দিয়েছেন এমন কথা অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি যেহেতু শাহাবাগ থানার সেহেতু সংশ্লিষ্ট থানা ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
শাহাদাত হোসাইন/আরএআর/জেআইএম