মাকে বাঁচানো যাবে না শুনে না ফেরার দেশে ছেলে
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট রবিন। এক কন্যা সন্তানের জনক। মা খুব আদর করত তাকে। মা এখন আইসিইউতে ভর্তি। ডাক্তার বলেছেন, তার মাকে আর বাঁচানো যাবে না।
মায়ের এমন অবস্থা মেনে নিতে না পেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে স্ত্রীর ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রবিন। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মল্লিকাদীঘি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মল্লীকাদিঘি গ্রামের মো. শহীদুল ইসলামের ছেলে মেজবাউল ইসলাম রবিন (২৪)। তিনি ৬ ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম। ভাইদের মধ্যে সবার ছোট বিধায় তিনি ছিলেন সবার আদরের।
বেশ কিছুদিন মালয়েশিয়া থাকার পর দুই বছর আগে তিনি বাড়ি ফিরে এসে পরিবারের দেখাশোনা করতেন। তার বাকি সব ভাইয়েরা বিদেশ থাকে। বাড়িতে তিনি স্ত্রী লিপি আক্তার (২০) ও দুই মাসের কন্যা সন্তান সাদিয়া জাহানসহ তার বাবা-মাকে নিয়ে বসবাস করতেন।
রবিনের মা মাহমুদা আক্তার (৫২) রবিনকে খুব বেশি আদর করতেন। গত ২০ দিন আগে তিনি ঢাকায় তার মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে স্ট্রোক করেন। খবর পেয়ে রবিন এরপর থেকে ঢাকায় মায়ের পাশে অবস্থান করতে থাকে।
গত ১৯ নভেম্বর তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ডাক্তাররা হাল ছেড়ে দিলে তাকে কুমিল্লা একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বর্তমানে তিনি আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
মায়ের এ মৃত্যু যাত্রাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি রবিন। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি গ্রামের নিজ বাড়িতে এলে তাকে বিষন্ন অবস্থায় দেখতে পান তার স্ত্রী। ভোর ৬টায় স্বামীকে পাশের কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
বুড়িচং থানা পুলিশের এসআই যুযুৎসু চাকমা বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী লিপি আক্তার।
এএম/আইআই