ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এখানে শুধু বউরাই কেনাকাটা করেন

প্রকাশিত: ০৬:৪৮ এএম, ০৪ জুলাই ২০১৫

ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে জমে উঠেছে বউ বাজার। ছুটির দিনে বিভিন্ন দোকান কর্মচারীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত ব্যতিক্রমধর্মী এ বউ বাজার দিনাজপুরবাসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ছুটির দিনে ক্রেতারা এ বউ বাজারে এসে যেমন স্বল্প মূল্যে তাদের পণ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন তেমনিভাবে ছুটির দিনে দোকান কর্মচারীরা ব্যবসা করে কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছেন। তবে বিভিন্ন দোকানের মালিকরা এ বউ বাজারকে বন্ধ করার জন্য বাঁধা প্রদান করার চেষ্টা করে আসছেন এ অভিযোগ দীর্ঘ দিনের বলে জানিয়েছেন কর্মচারীরা।



সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বাসুনিয়াপট্টিতে প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ বউ বাজার চলে। সকাল থেকেই নারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায় এই বউ বাজারে। উন্নতমানের দোকানে যেসব কাপড় পাওয়া যায় ঠিক সেসব কাপড় উক্ত দোকান থেকে কম মূল্যে পাওয়া যায়।

কীভাবে কম মূল্যে সেসব কাপড় পাওয়া যায় জানতে চাইলে বউ বাজারের ব্যবসায়ীরা জাগো নিউজকে জানান, এখানে যারা ব্যবসা করেন তাদের দোকান ভাড়া দিতে হয় না। এছাড়া নেই কর্মচারীদের বেতন এবং নেই কোনো ইলেক্ট্রিক বিল। তাই বাইরে থেকে কাপড় যে দামে কেনা হয় তার উপর কিছুটা লাভ রেখেই সেসব কাপড় বিক্রি করা হয়। কিন্তু এই কাপড়গুলোই যখন মার্কেটের দোকানে বিক্রি হয় তখন সেগুলোর উপর দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি যোগ করে এসব কাপড়ের মূল্য বেশি হয়ে যায়।



একই কাপড় কম মূল্যে পাওয়া যায় স্বীকার করে কাপড় কিনতে আসা শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার নববধূ শাবনুর বেগম জাগো নিউজকে জানান, কম মূল্যে কাপড় পাওয়া যায় সেজন্যই আমরা শুক্রবার করে এসব দোকানে কাপড় কিনতে আসি। ঈদের আগে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এখানে আগে সাধারণত গরীব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা কাপড় কিনতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে ধনিক শ্রেণির লোকরাও এখানে কাপড় কিনতে আসছেন।

কাপড় ব্যবসায়ী বিমল আগর ওয়ালা জাগো নিউজকে জানান, মোট ২ শতাধিক কাপড়ের দোকান কর্মচারী এসব দোকানের মালিক। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে কাপড় কিনে নিয়ে এসে এসব দোকানে বিক্রি করেন। অন্যান্য দিনে তারা কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কিন্তু ছুটির দিনে বাড়তি আয়ের জন্য তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। আর এবার ঈদকে সামনে রেখে বউ বাজারের দোকানীরা অনেক রকমের কাপড় সংগ্রহ করেছেন। সব ধরণের কাপড় আসায় ও দামে কম পাওয়ায় বউ বাজারটি দিনাজপুরের নারী ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিমল আগরওয়ালা আরো জানান, দোকান কর্মচারীদের এসব দোকান যাতে না করতে পারেন সেজন্য দোকান মালিকরা বাঁধা প্রদান করা শুরু করেছেন। তাদের কথা মানা না হলে তাদেরকে দোকান থেকে বের করে দেয়া হতে পারে।

 

তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি জানান, এসব দোকান করলে তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই তাদেরকে বাঁধা প্রদান করতে পারেন না। যদি কেউ করে থাকেন তাহলে তা তার অন্যায় হবে।

এ বাজারের দোকানদাররা সবাই পুরুষ। এখানে নারী-পুরুষ সকলের কাপড় পাওয়া গেলেও ক্রেতারা সব নারী হওয়ায় এ বাজারের নাম বউ বাজার। দীর্ঘদিন থেকে প্রতি শুক্রবার এ বউ বাজর বসছে।

এমদাদুল হক মিলন/এমজেড/এমএস