ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাংলার শিক্ষক নিচ্ছেন গণিত ক্লাস

জেলা প্রতিনিধি | খাগড়াছড়ি | প্রকাশিত: ০৫:০৭ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭

তেইশ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও মাত্র সাতজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পার্বত্য খাগড়াছড়ির প্রাচীনতম দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে ভেঙে পড়েছে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা।

দীর্ঘদিন ৭ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ অন্তহীন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও দেখার যেন কেউ নেই। পাশপাশি ফলাফল বিপর্যয় পিছু ছাড়ছে না বিদ্যালয়টির। শিক্ষক সঙ্কটের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের অভাবও প্রকট আকার ধারণ করেছে বিদ্যালয়ে।

সাতশ শিক্ষার্থীর দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন মাত্র সাতজন শিক্ষক। বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকার ফলে প্রতিবছরই ঘটছে ফল বিপর্যয়।

বিদ্যালয়টির বাংলার শিক্ষক প্রিয় চাকমা গণিতের ক্লাস নেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আশাপূর্ণ চাকমা। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নবম ও দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

২০১৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৫৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন পাস করলেও পরের বছর তা নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় ৭৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ২৯ জন।

শিক্ষক সঙ্কটের কারণে বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর হার বাড়ছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেকশনের ক্লাস রুমে শিক্ষার্থী থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক। আবার কোনো কোনো কক্ষে শতাধিক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে ক্লাস নিচ্ছেন একজন শিক্ষক।

প্রতিনিয়িত সাতশ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন ‘সাত শিক্ষক’ এমনটাই জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুপ চন্দ্র দাশ। ফলে এত শিক্ষার্থীর মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়টির সার্বিক অবস্থা জগাখিচুড়ি মন্তব্য করে দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাপূর্ণ চাকমা বলেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান অনেক সময় বন্ধ থাকে। শিক্ষক সঙ্কট উত্তরণে স্বল্পবেতনে তিনজন গেস্ট টিচার নিয়োগ দেয়া হলেও এতে সমস্যা কাটছে না।

প্রয়োজনীয় শিক্ষকের জন্য বারবার আবেদন করার পরও সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষক সঙ্কটই নয়, কর্মচারী সঙ্কটেও ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। অনেক সময় শিক্ষকদের দিয়ে করতে হচ্ছে দাফতরিক কাজ।

এদিকে, শিক্ষক সঙ্কটের মতোই প্রকট শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটও। কক্ষ স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান (পাখা) না থাকায় তীব্র গরমে পাঠদানে সমস্যা হয়।

এছাড়া সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়টি পুরোপুরি অরক্ষিত মন্তব্য করে দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাপূর্ণ চাকমা বলেন, এর ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানে মাদকাসক্তদের উৎপাত বাড়ে।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/এমএস