ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চেঙ্গীর পাড়ে শীতকালীন সবজি চাষ

জেলা প্রতিনিধি | খাগড়াছড়ি | প্রকাশিত: ০৮:০৩ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

খাগড়াছড়ির পানছড়ি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বহমান চেঙ্গী নদী। আর চেঙ্গী নদীর দুই পাড়ে বিস্তৃত চেঙ্গী ভ্যালি। নদীর পাড়েই চাষ হচ্ছে আলু, বেগুন, কপি, টমেটো, মুলা, বাহারি শাক, বাদাম, লাউসহ শীতকালীন নানা সবজি। শীতকালীন সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্য।

সম্প্রতি চেঙ্গী ভ্যালি ঘুরে দেখা যায়, নদীর দুই তীর জুড়ে চলছে কৃষকদের কর্মযজ্ঞ। কেউ কেউ ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবার কেউ সবুজ মাঠে সেচ দিচ্ছেন। কেউ আবার নিড়ানি দিয়ে প্রস্তুত করছেন খেত। অনেকেই আবার ফসল তুলতে ব্যস্ত। নিজেদের ফসলের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষাণীরা।

chengachi

দুই-চার বছর আগেও এখানে ফসলের পরিবর্তে চাষ হত পরিবেশ ধ্বংসকারী ‘তামাক’। বর্তমানে তামাকের পরিবর্তে কৃষকরা শীতকালীন ফসলের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

একাধিক কৃষক জানান, তামাকে লাভ বেশি হলেও পরিবেশ রক্ষায় তামাক চাষ বর্জন করে শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন। শীতকালীন ফসলেই তাদের ভাগ্য বদল হয়েছে।

chengachi

চেঙ্গী ভ্যালির বর্গাচাষি কৃষক অঞ্জ মোহন চাকমা প্রায় ৬০ শতক জমিতে বেগুন ও টমেটো চাষ করছেন। তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে ফলন তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। শীতকালীন ফসলে ভালো ফলনের পাশাপাশি অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।

চেঙ্গীর পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দা রনিক চাকমা ও নয়ন ত্রিপুরা চেঙ্গীর বুকে জেগে ওঠা চরে যৌথভাবে চাষ করেছেন বেগুন। ৬০ শতক জমিতে রয়েছে তাদের দেশি বেগুনের খেত। চেঙ্গী তীরের উর্বর জমিতে দেশি বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছেন এ দুই কৃষক। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে তুলে ৮০ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন তারা।

chengachi

বর্ষার পর নদীতে পানি কমে যাওয়ায় চেঙ্গী নদীর পারে বেগুন চাষ করে প্রতি হাটে ৩০-৩৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করছেন জানিয়ে কৃষক রনিক ত্রিপুরা বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। আরও প্রায় লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারব বলে আশাবাদী।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ-উর-রহমান বলেন, পানছড়ি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত পাহাড় ঘেরা বিস্তৃত চেঙ্গী ভ্যালি। সেচ সুবিধার কারণে এখানে আগাম শীতকালীন ফসলের উৎপাদন করা যায়। এখানে বাদাম, স্ট্রবেরি ও আখ চাষ বেশ জনপ্রিয়।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/আরএআর/জেআইএম